নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ভারতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে জালনোট কারবারে যুক্ত থাকার ঘটনায় চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করল কলকাতা নগর দায়রা আদালত (বিচারভবন)। দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে একজন পাকিস্তানের নাগরিক, নাম মহম্মদ ইজাজ। বাকি তিনজন ভারতীয় নাগরিক আফসার আনসারি, শেখ বাদল ও মহম্মদ জাহাঙ্গীর। বৃহস্পতিবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতের (বিচারভবন) মুখ্য বিচারক সুকুমার রায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। আজ, শুক্রবার আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করবে। কলকাতা নগর দায়রা আদালতের মুখ্য কৌঁসুলি দীপঙ্কর কুণ্ডু ও বিশ্বজিৎ ঠাকুরতা এই ‘হাইপ্রোফাইল’ মামলায় অপরাধীরা সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা বন্দরের ‘ক্ল্যাসিফায়েড’ অংশের ছবি পাক গুপ্তচর সংস্থার কাছে পাচার করা হচ্ছে, গোপন সূত্রে এখবর পান কলকাতা পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা। সেই খবর যাচাই করে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে বন্দর এলাকা থেকে আফসার আনসারি ও তার বাবা ইরশাদ আনসারিকে পাকড়াও করে। এরা দুজনেই বন্দরের ঠিকা শ্রমিক। সরকারি কৌঁসুলি জানান, সেই সুবাদে সেখানকার নানা খুঁটিনাটি বিষয় তাদের জানা ছিল। অপরাধ চক্রের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে আলাপ হয় পাক নাগরিক তথা আইএসআই এজেন্ট মহম্মদ ইজাজের। গোয়েন্দারা জানতে পারে, জাল নথি দিয়ে ওই পাকিস্তানি নাগরিক ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করেছিল। তারই মদতে আফসার বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের ছবি তোলে। সঙ্গে বন্দরের একটি মানচিত্রও বানায়। সে সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি হচ্ছিল বন্দরে। ছবি, মানচিত্রের সঙ্গে যুদ্ধ জাহাজের নকশাও পাকিস্তানে পাচার করে এই চক্র।
বাবা-ছেলেকে জেরা করে এই চক্রে যুক্ত শেখ বাদল ও জাহাঙ্গীরকে পুলিশ পাকড়াও করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় নানা নথিপত্র ও নগদ পাঁচ লক্ষ টাকার জালনোট। চক্রের সদস্যদের জেরা করে কলকাতা বন্দরকে ঘিরে পাক গুপ্তচর সংস্থার অসাধু অভিসন্ধি সামনে আসে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশ এই মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জশিট পেশ করে। পরে মামলাটি বিচারের জন্য যায় কলকাতা নগর দায়রা আদালতে। সেখানে চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। শুনানিকালে মারা যায় ধৃত আফসারের বাবা ইরশাদ। মামলা থেকে তার নাম বাদ যায়। মামলায় সাক্ষ্য দেন ২২জন। বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিপত্র ও উদ্ধার হওয়া পাঁচ লক্ষ টাকার জালনোট আদালতে শনাক্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে বলেন, যে সমস্ত জাল টাকা উদ্ধার হয়েছে, তা অত্যন্ত উন্নত মানের। তা যে নকল, খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই। শুনানির শেষে দীর্ঘ ১০ বছর পর বিচারক অভিযুক্ত চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।