


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জেন জি বিদ্রোহের পদধ্বনি এবার পাকিস্তানে! নেপালে সরকার বদলের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণবিদ্রোহের আভাস। অন্তত চারটি শহরে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ। প্রাথমিকভাবে মূলত স্কুল-কলেজের ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। পাশাপাশি চাকরির দাবিতে কর্মহীন যুবসমাজও। কোথাও আবার আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং যখন তখন সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার, গ্রেফতারি, দমনপীড়নমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বিক্ষোভ। শনিবার সকালে কোটলি এলাকায় ছাত্র, যুবদের বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সব মিলিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হঠাৎই প্রবল অস্থিরতা। চাপ বাড়ছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপর।
পাকিস্তান সরকার শুক্রবারই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পর্যটকদের পাক অধিকৃত কাশ্মীরে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশি ও বিদেশি সাংবাদিকদের উপরও বলবৎ হয়েছে সেই নিষেধাজ্ঞা। যত বিদেশি মিডিয়ার প্রতিনিধি রয়েছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে, তাঁদের রাস্তায় বেরনো নিষিদ্ধ। এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে চলে যেতেও বলা হয়েছে। এতেই বড়সড় কোনও ঘটনার আশঙ্কা চরমে। আসলে ‘অপারেশন সিন্দুরে’ পর্যুদস্ত পাকিস্তান আর কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না। বিক্ষোভকারী পাবলিক অ্যাকশন কমিটিও অনড়। রবি ও সোমবার পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘট ডেকেছে তারা। পুলিশ, সরকারি কর্মী এবং হাসপাতালের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে মুজফ্ফরাবাদে পাঠানো হয়েছে ২ হাজার প্লাটুন পাক সেনা এবং রেঞ্জার্স বাহিনীকে।
কাকতালীয়ভাবে শুক্রবারই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভারতের বিরুদ্ধে বিষ উগরে দিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আর তারপরই মার্কিন মুলুকে বসে তিনি খবর পেয়েছেন যে, ভারতের কাশ্মীরকে আজাদ করার ডাক দেওয়ার দিনেই আদতে তাঁদের হাতে বন্দি থাকা অধিকৃত কাশ্মীর জ্বলছে। ছড়িয়ে পড়েছে বিদ্রোহ। এমনকি বালুচিস্তানের বিদ্রোহী নেতা পর্যন্ত পালটা আক্রমণ করেছেন। শরিফের রাষ্ট্রসংঘের ভাষণের তীব্র সমালোচনা করে ইয়ার বালুচের বিবৃতি, ‘পাকিস্তান জোর করে সেনার বন্দুক দিয়ে আটকে রেখেছে অধিকৃত কাশ্মীর এবং বালুচিস্তান দুই অংশই। আদতে এই দুই অংশই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত থাকতে চায় না।’
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মরক্কোয় গিয়ে একটি সভায় বলেছিলেন, ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ নিজেরাই কাশ্মীরের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন করতে নামবে।’ রাজনাথ সিংয়ের ওই মন্তব্যের ৭২ ঘণ্টা পরই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে আন্দোলন। শনিবারের মিছিলগুলি থেকে স্লোগান উঠেছে, ‘খুনি প্রশাসন নিপাত যাক, মানুষখেকো পুলিশ সেনা হায় হায়’ ইত্যাদি। এদিন বিপুল সংখ্যক ট্যাঙ্ক, সেনাবাহিনী পাঠানো শুরু হয়েছে সেখানে।