


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দীর্ঘ চাষের জমি। তার খানিক ভিতরে ফুলকপি, টম্যাটোর চাষ হচ্ছে। আছে কলাবাগানের আড়ালও। সেই ঢেকে থাকা জায়গায় বেশ খানিক এলাকাজুড়ে পোস্ত’র চাষ। হুগলির পোলবা-দাদপুর ব্লকের আমনান পঞ্চায়েতে হচ্ছিল এই নিষিদ্ধ চাষ। সোমবার তা ধ্বংস করল হুগলি গ্রামীণ পুলিস। বিশেষ দল চাষের খেতে গিয়ে প্রায় ১২ কাঠা জমির ফসল নষ্ট করেছে। তারপরও অবশ্য চিন্তা কমছে না পুলিসের। কারণ, নিষিদ্ধ চাষ বন্ধে সাম্প্রতিক সময় হুগলি গ্রামীণের একাধিক ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় হানা দিতে হয়েছে দলটিকে। সোমবারই গিয়েছিল তিনটি গ্রামে। বাংলায় অবৈধ পোস্ত চাষের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে হুগলিতে নিষিদ্ধ চাষের কথা বিশেষ শোনা যায়নি। ফলে বিষয়টি পুলিস কর্তাদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।
সম্প্রতি বলাগড়ের একাধিক চরে হানা দিয়ে পোস্ত চাষ নষ্ট করেছে পুলিস। সোমবার গিয়েছিল পোলবা থানা এলাকায়। সবক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেই চাষ করা হয়েছে। কোথাও প্রায় জনবিরল চরে চাষ হয়েছে। কোথাও বড় আকারের চাষের জমিতে অন্যান্য ফসলের আড়াল তৈরি করে চাষ করা হয়েছে। এই সুপরিকল্পিত কাজের ধরন ভাবাচ্ছে পুলিস কর্তাদের। এদিনের অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হুগলি গ্রামীণ পুলিসের ডিএসপি(ক্রাইম) প্রিয়ব্রত বক্সি। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ পুলিস সতর্ক আছে। সে কারণেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ গ্রামীণ পুলিসের অন্য এক আধিকারিক বলেন, ‘সতর্কতার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও গড়ে তুলতে হবে। কারণ বিষয়টি পরিকল্পনামাফিক হচ্ছে। এভাবেই সামান্য জমি ব্যবহার করে মালদহ, মুর্শিদাবাদে বিঘের পর বিঘে জমিতে পোস্ত চাষ হয়েছে। যা স্থানীয়স্তরে সামাজিক ও আইনগত সঙ্কট তৈরি করেছিল। সেই পরিস্থিতির জন্য সতর্ক থাকতে হবে।’
বাঙালির রান্নাঘরের অন্যতম প্রিয় উপকরণ পোস্ত। কিন্তু এদেশে চাইলেই পোস্ত চাষ করা যায় না। তা চাষের আড়ালে আসলে হেরোইনের মতো আন্তর্জাতিক ও আফিমের মতো দেশি মাদকের ব্যবসা ফাঁদা হয়। একসময় মালদহ, মুর্শিদাবাদ এই ব্যবসার জন্য বারবার চর্চায় এসেছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বিচ্ছিন্নভাবে পোস্ত চাষের প্রয়াস চলছে। সেই তালিকায় হুগলিও জুড়ে যাচ্ছে এখন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ সূত্র মারফত খবর পাওয়ার পর সোমবার পোলবা থানার ডুবির ভেরি, ডাকাতিয়া মৌজা, করিচাতে অভিযান চালানো হয়। সেই সব এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় ১২ কাঠা জমিতে পোস্ত চাষ হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাছগুলি আকারে বড় না হলেও ফুল ধরতে শুরু করেছিল। এদিন পোস্ত চাষিদের কোনও হদিশ মেলেনি। পাশাপাশি যাঁদের জমি তাঁদের অজ্ঞাতেই চাষ হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিস কর্তাদের দাবি, সমস্ত বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।