শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: মাঠে নতুন ঘাস। কিন্তু স্টেডিয়ামের চেহারা পুরানো! চারপাশে কার্যত আগাছার জঙ্গল। গ্যালারির চেয়ারে ধুলো আর নোংরা। কোথাও প্লাস্টিকের বোতল, কোথাও শুকনো পাতা। মাঠে খেলা হয় না, তাই পরিচর্যার ছাপও নেই। উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন আজ যেন প্রশাসনিক উদাসীনতারই প্রতিচ্ছবি। একসময় এই স্টেডিয়াম ছিল জেলার ফুটবলের ঠিকানা। আই লিগ, কলকাতা লিগ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হয়েছে এখানে। কিন্তু অ্যাস্টো টার্ফ বসানোর পর থেকেই জৌলুস হারাতে শুরু করে মাঠ। চোটের আশঙ্কায় ফুটবলারদের একাংশ এই মাঠে খেলতে চান না। ধীরে ধীরে বড়ো টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন স্টেডিয়াম কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। গত বছর অ্যাস্টো টার্ফ তুলে প্রাকৃতিক ঘাস বসিয়ে মাঠকে ফের খেলার উপযোগী করা হয়। এর জন্য প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু মাঠ তৈরি হলেও স্টেডিয়াম চালু হয়নি। এখানেই উঠছে প্রশ্ন।
স্টেডিয়াম বন্ধ থাকায় তার রক্ষণাবেক্ষণ কার্যত শিকেয় উঠেছে বলে অভিযোগ। নিয়মিত খেলা বা অনুশীলন না হওয়ায় গ্যালারিতে জমছে আবর্জনা। দর্শকাসন ধুলোয় ঢেকেছে। স্টেডিয়ামের চারপাশে গজিয়েছে আগাছা। জেলার যে মাঠকে ফুটবলের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল, সেই মাঠের বাইরের ছবি এখন অব্যবস্থার কথা বলছে। ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রশ্ন, সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ খরচ করলেই কি দায়িত্ব শেষ? মাঠ তৈরি হওয়ার পর সেটি দ্রুত চালু করা, নিয়মিত পরিচর্যা করা এবং মাঠের ব্যবহার নিশ্চিত করাও তো প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়েনি বলেই অভিযোগ। ফলে নতুন করে তৈরি হওয়া পরিকাঠামো অবহেলার শিকার হতে শুরু করেছে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী বাবলু চক্রবর্তী বলেছেন, বাম আমলে তৈরি হওয়া এই স্টেডিয়াম দীর্ঘদিন বেহাল ছিল। পরে তৃণমূলের আমলে এটি নতুন করে খেলার উপযোগী করা হলেও তা চালু হয়নি। এখন বিজেপি এসেও এই স্টেডিয়াম নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। ফলে সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার। স্থানীয়দের বক্তব্য, কেবল ঘোষণা নয়, এখন প্রয়োজন স্টেডিয়াম চালু করা। কারণ খেলা না হলে মাঠ যেমন প্রাণ হারায়, তেমনই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হয় গোটা পরিকাঠামো। বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান ছবি সেই আশঙ্কারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা চলতে থাকলে কয়েক মাস আগে সংস্কার হওয়া এই স্টেডিয়াম ফের অবহেলার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে— এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। নিজস্ব চিত্র