সংবাদদাতা, বজবজ: নিকাশি নালা দিয়ে জল সরে না। কারণ তা গোবরে গোবরময়। গোবর জমে মোটা চাদরের মতো হয়ে গিয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই মহেশতলার ১, ২, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রাস্তা, লাগোয়া জনপদের অলিগলি থেকে ঘরের উঠোন গোবরময় হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এই গোবর জল অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে নিকাশির মুখ আটকে দেয়। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানীয় জলের পাইপলাইন কখনও ফুটো হলে সেখান দিয়েও গোবর ঢুকে যায়। তখন খাবার জলে গোবরের গন্ধ ম ম করে। মুখে তোলা যায় না সেই জল।
এক প্রবীণ নাগরিক জানালেন, বর্ষার সময় এই তিনটি ওয়ার্ডের অবস্থা ভয়ঙ্কর হয়ে যায়। তখন জল আর গোবর জমে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। পোশাক গুটিয়ে যেতে হয়। অসতর্ক হয়ে পিছলে পড়লে দুর্দশার শেষ থাকে না। আলমপুরের বাসিন্দা রাজেন্দ্র সিং বলেন, দাদুর সময় থেকে এখানে বসবাস আমাদের। কিন্তু এই খাটালের গোবরের কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেল। পুরসভা থেকে নেতাদের কাছে বহুবার দরবার করেও কিছুই হয় না। তিনি জানান, এখানে সব মিলিয়ে কয়েকশো খাটাল আছে। পুরসভার মাত্র একটি লরি এসে গোবর তুলে নিয়ে যায়। কিন্ত প্রতিদিন যত গোবর খাটালগুলি থেকে নিকাশিতে ফেলা হয়, সেই তুলনায় তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিমাণ খুব সামান্য। ফলে গোবর জমছেই। জানি না কবে এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে রেহাই মিলবে।
চার মাস আগে এই গোবর সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের কর্তারা মহেশতলা পুরসভাতে এসে দু’দিন ধরে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে খাটাল মালিকরা, কাউন্সিলাররা এবং চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্যরা ছিলেন। ঠিক হয়েছিল, মহেশতলা পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে গোবর সার তৈরির প্ল্যান্ট হবে। এই তিনটি ওয়ার্ড থেকে নিয়মিত সেখানে গোবর তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু তারপর বিষয়টি আর এগোয় নি। চেয়ারম্যান দুলাল দাস বলেন, রোজ এক লরি করে গোবর তোলা হচ্ছে। এর বেশি কিছু করার ক্ষমতা নেই।