Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুনাফার টানে বন্ধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র! কালো ধোঁয়ায় ঢাকছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল

মেঘলা আকাশ কিংবা বৃষ্টির অজুহাত তুলে চিমনি দিয়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের গুরুতর অভিযোগ ঘিরে আলোড়ন দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে।

মুনাফার টানে বন্ধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র! কালো ধোঁয়ায় ঢাকছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: মেঘলা আকাশ কিংবা বৃষ্টির অজুহাত তুলে চিমনি দিয়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের গুরুতর অভিযোগ ঘিরে আলোড়ন দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে। দুর্গাপুর নগর নিগমের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেট ডায়েরি মোড় সংলগ্ন একটি কয়লা ভাটিকে ঘিরে এই অনিয়মের ছবি সামনে এসেছে। অভিযোগ, বিদ্যুতের বিল ও অন্য পরিচালনার খরচ বাঁচাতে সুযোগ বুঝে বন্ধ রাখা হচ্ছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিমনি থেকে অনবরত বেরনো কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় মাত্রা বাড়ছে দূষণের।

Advertisement

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের হুঁশিয়ারি, বিদেশে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিবেশ রক্ষা পায়। অথচ এখানে কেবল বেশি মুনাফা আর খরচ বাঁচানোর তাগিদে আধুনিক যন্ত্র চালানো হয় না। এই বেআইনি কারবার আর চলবে না। নিজেরা পকেট ভরবেন, আর সাধারণ মানুষ দূষণের বিষ গিলে ক্যানসারের মতো মারণ রোগে ভুগবে, এটা চলতে পারে না। তিনি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় মানুষকে এমন ঘটনা প্রশাসনের নজরে আনার জন্য বলেন। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, গত ৪৯ বছরের জমা হওয়া ‘পাপ’ মাত্র ৫০ দিনে মেটানো সম্ভব নয়। সিপিএম সরকারের আমলে অন্য রাজ্যে প্রত্যাখ্যাত হওয়া স্পঞ্জ আয়রন ও ফেরো ইন্ডাস্ট্রির মতো দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পকে স্থান দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি ও পরিবেশবান্ধব ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট তৈরির উপর  জোর দিচ্ছে।
বিধায়ক আরও জানান, দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রতিদিন দূষণ প্রতিরোধ ও নগরায়নের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষ্কার রাখার বিষয়গুলি দেখছেন। পাশাপাশি দপ্তরের মন্ত্রী, ডেপুটি লেবার কমিশনার এবং ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টররা নিয়মিত কারখানাগুলি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিএমএস-এর জেলা সম্পাদক মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, লিখিতভাবে প্রমাণ-সহ অভিযোগ  জানালে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কারখানা থেকে অনবরত বেরোনো কালো ধোঁয়া ও দূষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই কয়লাভাটির এক প্রবীণ কর্মী চিত্ত মাহাত জানান, বৃষ্টিতে মোটর পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখা হয়েছিল।
যদিও ওই ভাটির অন্যতম অংশীদার দেবদীপ মজুমদার বলেন, বৃষ্টির কারণে এবং মোটর পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় যন্ত্র চালানো সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ হয়তো ছিল, তবে আমি সে সময় উপস্থিত ছিলাম না। সে কারণেই যন্ত্র বন্ধ রাখা হতে পারে। তবে দ্রুত যন্ত্র চালু করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ