নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরেই ফাঁকা পড়ে রয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ। এদিকে এগিয়ে আসছে উৎসব। তাতে শব্দ এবং অন্যান্য দূষণে নজরদারি কেমন চলবে, তা অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। তবে দুর্গাপুজোয় সামিল হওয়ার বিষয়ে পিছিয়ে থাকছে না পর্ষদ। রাজ্যজুড়ে চারশোরও বেশি দুর্গাপুজোয় গড়ে ২৫ হাজার টাকা করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা। বন ও পরিবেশ দপ্তরের শীর্ষস্তর থেকে পুজো কমিটিগুলির নাম সুপারিশ হয়ে এসেছে বলে খবর। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি। মূলত পরিবেশ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেই সংক্রান্ত স্লোগান ও নির্দেশিকা দিয়ে বিজ্ঞাপনগুলি প্রচারিত হবে।
পুজো কমিটিগুলিকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে তাদের থেকে একটি অঙ্গীকারপত্র জমা নেয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তাতে উল্লেখ থাকে, প্রতিমা এবং মণ্ডপসজ্জায় এমন কোনো উপাদান ব্যবহার করা যাবে না, যেগুলি পরিবেশ সহায়ক নয়। প্রতিমা তৈরিতে প্লাস্টার অব প্যারিস, রাসায়নিক রং ব্যবহারেও কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মণ্ডপ বা প্রতিমাসজ্জায় শোলা ব্যবহার করা গেলেও থার্মোকল পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ৯০ ডেসিবেলের উপরে শব্দসৃষ্টিকারী বাজি, রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর মাইক এবং ডিস্ক জকি (ডিজে) সেট ব্যবহারও শুধু নিষিদ্ধ নয়, আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধও। এছাড়াও ১০০ মাইক্রনের কম পুরু প্লাস্টিক শিট দিয়ে ব্যানার, পোস্টার ব্যবহারের উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে উৎসবের সময় রাজ্যজুড়েই এসব নিয়ম লঙ্ঘনের ভূরিভূরি অভিযোগ ওঠে। তা দেখার পরিকাঠামোও সব ক্ষেত্রে নেই বলে দাবি করেন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকরা। তবে এর সঙ্গে বিজ্ঞাপন দেওয়ার কোনো বিরোধ নেই বলে মনে করছেন তাঁরা।



