Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর আবহে এবার ভোটদানের হার বাড়বে দাবি রাজনৈতিক দলগুলির

এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে এবার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে ভোটদান। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক দলগুলির।

এসআইআর আবহে এবার ভোটদানের হার বাড়বে দাবি রাজনৈতিক দলগুলির
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে এবার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে ভোটদান। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক দলগুলির।

Advertisement

চাঁচল বিধানসভা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে সংখ্যালঘু ভোটার ৬০ শতাংশের বেশি। গত বিধানসভায় এই কেন্দ্রে ভোটদানে অংশগ্রহণের হার ছিল ৮৩.৮ শতাংশ। তবে, এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এসআইআর নিয়ে জোর চর্চা ও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় অনেক পরিযায়ী শ্রমিক আগেভাগেই ঘরে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। 
শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাঁচল মহকুমার চারটি বিধানসভা এলাকায় প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার শ্রমিক রাজ্য সরকারের পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ যোজনায় নথিভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার শ্রমিক নিয়মিত ভিনরাজ্যে কাজ করেন। সেই ভোটারদের একটি বড় অংশ যদি ভোট দিতে ফেরেন, তা হলে সামগ্রিক ভোটের হার আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। চাঁচলের আতাউল হোসেন কেরলে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।  বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি ফিরেছি। নাম কাটা যাওয়ার ভয়টা ছিল। তাঁর মতো আরও বহু শ্রমিক এলাকায় ফিরে এসেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। 
গত বিধানসভা ভোটে চাঁচলে তৃণমূল কংগ্রেস ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিল। সেখানে কংগ্রেস পেয়েছিল ১৫ শতাংশ ও বিজেপি ২৪ শতাংশ। বাকি ৩ শতাংশ গিয়েছিল অন্যান্য দলের ঝুলিতে। সেই ফলাফলের নিরিখে এবারের লড়াইয়ের প্রাথমিক হিসাব কষছে রাজনৈতিক দলগুলি। চাঁচল ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ আফসার আলির দাবি, উন্নয়নের জোরেই গতবার আমরা জিতেছিলাম। পাঁচ বছরে আরও অনেক কাজ হয়েছে। এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হয়েছে। যাঁরা বাইরে কাজ করেন, তাঁরাও আতঙ্কে বাড়ি ফিরছেন। এই পরিস্থিতি আমাদের পক্ষেই যাবে।
অন্যদিকে, চাঁচল ১ ব্লক কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কাজি আতাউর রহমানের মন্তব্য, ভোটাররা এখন সচেতন। গতবার এনআরসির ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়া হয়েছিল। এবার এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। তৃণমূল ও বিজেপির এই রাজনীতিকে মানুষ আর মেনে নেবে না।
বিজেপির উত্তর মালদহ যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির জন্যই নিয়ম মেনে এসআইআর হয়েছে। তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের মধ্যে ভয় ছড়াচ্ছে। বাইরে থাকা শ্রমিকরাও এবার পরিবর্তনের পক্ষে এবং এলাকায় কাজ পেতে ভোট দেবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ