নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এই বঙ্গের রাজনৈতিক ইস্যু এখন প্রস্তাবিত এসআইআর, ভাষার উপর সন্ত্রাস নাকি দুর্নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, চর্চা চলছে জোরকদমে। এমন একটা সময়ে হঠাৎই গান-ফায়ার! গানের সুরে মিলে গেল ‘তিন ঘোষের’ সুরেলা সফর। তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, সিপিএমের শতরূপ ঘোষ আর এক ঘোষের নাম গায়ক উচ্চারণ করেননি। তাই না লেখাই শ্রেয়। তবে তিনি মঞ্চ থেকে ইঙ্গিত দিয়েছেন দু’টি শব্দে, ‘রোমান্টিক’ ও ‘গোরুর দুধে সোনা’। যা দিয়ে নাম না বললেও, বোঝা যায় গোছের অবস্থা তৈরি হয়। এই তিন ঘোষকে নিয়ে রাজনৈতিক মহল নতুন আলোচনার খোরাক পেয়েছে। তৃণমূল এসব নিয়ে অতটাও চিন্তিত নয়। তারা ‘ভাষা আন্দোলন’-এ। সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া যোদ্ধারা কিন্তু বেজায় রেগেছেন। কেন? তাঁদের ফেসবুক ‘ভোমর’ শতরূপকে কেন বাকি ঘোষদের সঙ্গে এক থালায় রাখা হল? একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। আর জি করের সময় অনির্বাণ চুপ ছিলেন কেন? এখন কেন এত বিপ্লব?
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নতুন ব্যান্ড ‘হুলি-গান-ইজম’-এর ‘মেলার গান’ নেটবাসীদের বড্ড ভালো লেগেছিল। মেলার পর এবার ‘তুমি মস্তি করবে জানি’। গানের কথায় এসেছে ‘মোদির নাকি টেনশন?’, ‘এসআইআর কী বলছে?’, ‘হিন্দুরাষ্ট্র হবে?’, ‘সিপিএম কেন জিরো?’, এসব প্রশ্ন। তবে বাঙালি ওসব নিয়ে খুব একটা ভাবিত নয়। তাঁদের পছন্দ ‘ঘোষ বংশ’। কী গেয়েছেন অনির্বাণের ব্যান্ড? ‘এসব গান বাজনা ছাড়, চল প্রোমোটারি করি, বড় গাড়ি চড়ি/ ইলেকশনের মেজাজ বুঝে দলটা বদল করি/এই আমাদের দোষ/গান বাজনা করতে এসে এসব কথা বললে/রেগে যাবে কুণাল ঘোষ।’ বহু যুদ্ধের নায়ক কুণাল ঘোষ কি সত্যিই রেগেছেন? বালাই ষাট! তিনি বলেছেন, ‘আমার মজা লেগেছে, ভালো লেগেছে। গানের ধরণ, উপস্থাপনাও উপভোগ করলাম। একটু তির্যক, তাতে কী! কুণাল ঘোষ এসব মজা নিতে জানে। ভালো থেকো অনির্বাণ।’
মঞ্চের সাইকেডেলিক আলো ভেদ করে অনির্বাণ আরও গেয়ে ওঠেন, ‘আরেক ঘোষও আছে/দাদা খুবই রোমান্টিক/ঘোষ দিয়ে যায় চেনা/গয়না দোকান সব তুলে দাও/গরুর দুধে সোনা।’ গায়ক চেয়েছেন ঘোষ দিয়েই তাঁকে সকলে চিনুক। এরপর লালের অনুপ্রবেশ। মঞ্চ থেকে ব্যান্ডের আর এক সদস্য দেবরাজ গেয়ে ওঠেন, ‘আরেক ঘোষও আছে, ওই বিপ্লবীদের পার্টি/টিভি চ্যানেল, পার্টি অফিস বড্ড হাঁটাহাঁটি/তাই কিনেছে গাড়ি, দামটা বেশি খুব/ফেসবুকেতেই রাজা, মোদের দাদা শতরূপ।’ এসব শুনে প্রজারা রেগেছেন ঠিকই, কিন্তু শতরূপ বলছেন, ‘আমার গানটা ভালো লেগেছে। মজা লেগেছে। গতকাল থেকে আমার মনে হচ্ছে নীলাঞ্জনা, বেলা বোসের মতো আমিও একটা বাংলা গানের চরিত্র হলাম। এটাই বা খারাপ কী!’ বিতর্ক, চর্চা, আলোচনা সৃষ্টিকারী সেই অনির্বাণ মুঠোফোনে অধরা। তবে সামাজিক মাধ্যমে সরব। তিনি লিখেছেন, ‘দোকানে আরও জিনিস আছে। সঙ্গে থাকুন, মজা হবে।’