তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: পুজোর আগে সক্রিয় হয়েছে জালনোটের কারবারিরা। বাংলাদেশ থেকে পাচারকারীরা জালনোট মালদহ সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে চালান করছে। ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), বিএসএফের হাতে মালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জাল ৫০০ টাকার নোট সহ গ্রেপ্তার হয়েছে পাচারকারীরা। তবে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, যে পরিমাণ জালনোট উদ্ধার হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি টাকা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেই ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে বিশেষ ব্যবস্থা করবে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। টাকা চেনার উপায়, নোটের কাগজের মান, সই, ওয়াটার মার্ক সহ সমস্ত বিষয় ব্যবসায়ীদের বোঝানো হবে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।
এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, আমরা জালনোটের বিষয়ে নজরদারি রাখি তা ঠিক। তবে পুজোর সময়ে যাতে ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষতির সম্মুখীন না হতে হয় সেই ব্যাপারে আমরা সচেতনতা শিবির করব।
এই প্রসঙ্গে বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাপী সাহা বলেন, পুজোর ভিড়ের সুযোগে এইভাবে জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা আমরা প্রতি বছরই দেখে থাকি। এবারে এবিষয়ে পুলিশ উদ্যোগ নিলে আমরা খুবই খুশি হব।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই মালদহের বৈষ্ণবনগর থানা এলাকাতে ২১ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় যে ৫০০ টাকার জালনোট একসঙ্গে রেখে পাচার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ঘটনার ঠিক দু’দিন পরেই বৈষ্ণবনগর এলাকা থেকে বিএসএফ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের এপারে প্রায় দু’লক্ষ টাকা পায়। এক্ষেত্রেও ৫০০ টাকার জালনোট উদ্ধার হয়েছিল। তার কয়েকদিন পর মালদহ জেলার একটি বাজারে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। বাজারে সেই টাকা চালানোর চেষ্টা করেছিল এক ব্যক্তি। তার হেফাজত থেকে সবকটি ৫০০ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা সামনে আসতেই পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ আরও বেশি সক্রিয় হয়। পাশাপাশি শুধুমাত্র মালদহ জেলা নয় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাজারে এনিয়ে নজরদারি রাখা হয়েছে। পুজোর মরশুমে বাজারে ভিড় থাকে মারাত্মক। তার আড়ালেই এধরনের জালনোট চালানোর চক্র সক্রিয় হতে পারে বলে দাবি গোয়েন্দাদের একাংশের। সেই ভিত্তিতেই ব্যবসায়ীদের সচেতনতা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।