নিজস্ব প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিক-কৃষক বিরোধী নীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে পালিত হল সাধারণ ধর্মঘট। ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলির ডাকা বুধবারের এই কর্মসূচি আংশিক সফল। দেশের অন্যত্র জনজীবনে খানিক প্রভাব পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে ধর্মঘটের নামে কার্যত তাণ্ডব চালাল বামপন্থীরা। অভিযোগ, কলকাতার যাদবপুরে এক পুলিস কর্মীর গায়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়েছে। এমনকী রেললাইনে পর্যন্ত কংক্রিটের স্লিপার ফেলে ট্রেন বিপর্যয়ের ছক কষেছিলেন ধর্মঘটীরা। যদিও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির রাজ্য নেতৃত্ব। তাদের পাল্টা দাবি, রাজ্যজুড়ে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারির ঘটনা জলপাইগুড়িতে। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে আগামী তিনদিন বিক্ষোভ চলবে বলে জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
রাজ্যের সাধারণ মানুষ অবশ্য এদিনের ধর্মঘটে সাড়া দেননি। সকাল থেকে কলকাতার জনজীবন ছিল স্বাভাবিক। বেলা একটু গড়াতেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর। গাঙ্গুলিবাগানে রাস্তা আটকানোর সময় ধর্মঘটীরা এক পুলিস কর্মীর গায়ে আগুন দেয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সহ ২০ জনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, পুলিসের কাজে বাধা দেওয়ার মামলা দায়ের হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে খবর। এছাড়াও ২১ জনকে ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ করা হয়। পরে অবশ্য আলিপুর আদালত সকলের জামিন মঞ্জুর করেছে। বিকেলে কলেজ স্ট্রিটেও উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে এসএফআইয়ের বিরুদ্ধে পুলিসকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা হিসেবে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে পুলিসের বিরুদ্ধে এক ধর্মঘটীকে চড় মারার কথা তুলেছেন মহম্মদ সেলিম। বলেছেন, সিপিএমের তরফে এব্যাপারে এসপির কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার দেউলা ও মগরাহাটে ট্রেন অবরোধে শামিল হন ধর্মঘটীরা। রেল জানিয়েছে, কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে লাইনের মাঝে রেখে যায়। আপ কিংবা ডাউনে তীব্র গতির ট্রেন চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। শিয়ালদহগামী ট্রেনের চালকের নজরে আসে ট্র্যাকের উপর ওই কংক্রিটের স্লিপার। সঙ্গে সঙ্গে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেন তিনি। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণে বাঁচেন হাজার হাজার যাত্রী। এই ঘটনার পিছনেও ধর্মঘটীদের হাত দেখতে পাচ্ছেন রেলকর্তারা।
নবান্ন সূত্রে খবর, এদিন সমস্ত সরকারি দপ্তরে ১০০ শতাংশ হাজিরা ছিল। উত্তরবঙ্গে চাবাগানগুলিতে কাজকর্ম স্বাভাবিক ছিল। নকশালবাড়ি সহ কিছু জায়গায় গণ্ডগোলের খবর মিলেছে। দক্ষিণবঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব পড়েছে। তবে দুর্গাপুর, আসানসোল ও বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সেটুকুও দেখা যায়নি। আংশিক সাড়া মিলেছে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে। দফায় দফায় রেল-রাস্তা অবরোধ হলেও উলুবেড়িয়ায় জনজীবন ছিল স্বাভাবিক। বনগাঁ থেকে কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর, পাথরপ্রতিমা ও কুলপি বাজার সর্বত্র দোকানপাট খোলা ছিল। যদিও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর তরফে সিটু রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম জানিয়েছেন, মানুষ যেভাবে ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন, তা অভাবনীয়। এদিন ব্যাঙ্কিং, বিমা, কয়লা, বন্দর, বিদ্যুত্, পরিবহণ সহ একাধিক সেক্টরে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে।