Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাতসকালে ঘরের পাশে বৃদ্ধার গলাকাটা দেহ, মুণ্ডর খোঁজে দিনভর হন্যে পুলিশ

সাতসকালে ঘরের পাশে বৃদ্ধার গলা কাটা দেহ। মুণ্ডর খোঁজে দিনভর হন্যে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ব্যাপক আলোড়ন ছড়ায় জলপাইগুড়ির বাহাদুর পঞ্চায়েতের চেকরচণ্ডী কামাত এলাকায়।

সাতসকালে ঘরের পাশে বৃদ্ধার গলাকাটা দেহ, মুণ্ডর খোঁজে দিনভর হন্যে পুলিশ
  • ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: সাতসকালে ঘরের পাশে বৃদ্ধার গলা কাটা দেহ। মুণ্ডর খোঁজে দিনভর হন্যে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ব্যাপক আলোড়ন ছড়ায় জলপাইগুড়ির বাহাদুর পঞ্চায়েতের চেকরচণ্ডী কামাত এলাকায়।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম সমিজা খাতুন (৭৩)। পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা গিয়েছেন। সাত বছরের নাতিকে নিয়ে শুক্রবার রাতে ঘরে ঘুমিয়েছিলেন তিনি। এদিন সকালে বাড়ির অন্যরা তাঁকে চা খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা থাকলেও ঘরে নেই ওই বৃদ্ধা। এরপরই এদিক ওদিক খোঁজ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। কিছুক্ষণ পর তাঁদের নজরে আসে, বাড়ির পিছনে ড্রেনের মধ্যে বৃদ্ধার গলা কাটা রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। মুণ্ড উধাও। এ খবর চাউর হতেই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুণ্ডর খোঁজে নামানো হয় পুলিশ কুকুর। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক টিমের সদস্যরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃদ্ধার কাটা মুণ্ড মেলেনি।
জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মহিলার মাথার অংশের খোঁজ চালানো হচ্ছে। পুলিশ কুকুর ও ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছি আমরা। ফরেন্সিক টিমও রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মৃত সমিজা খাতুনের তিন ছেলে ও চার মেয়ে। এর মধ্যে বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দুই ছেলে থাকেন। কিছুটা দূরে বাড়ি আরএক ছেলের। চার মেয়ের প্রত্যেকেই বিবাহিত। এর মধ্যে এক মেয়ে বাপেরবাড়িতে থাকেন। বৃদ্ধার স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েরা নিজেদের মধ্যে জমির ভাগ করে নেন। বৃদ্ধার নামে কিছুটা জমি রয়েছে। বাকি একটি জমি নিয়ে বৃদ্ধার দুই ছেলের মধ্যে বিবাদ চলছে। এই পরিস্থিতিতে কে বা কারা ওই বৃদ্ধাকে খুন করল তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ। এদিন রাতে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে ওই বৃদ্ধাকে খুন করা হয়েছে। 
এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি সদরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বসু। তিনি বলেন, ভারী ও ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধার গলা কাটা হয়েছে বলে ধারণা। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
মৃতার বাড়িতে আসেন জলপাইগুড়ি আসনের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। তিনি ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানান। ঘটনাস্থলে ছিলেন বাহাদুর পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান অমিত দাস। তিনি বলেন, ঘটনাটি ভয়াবহ। 
মৃতার নাতনি ইয়াসমিনা পারভীন বলেন, শুক্রবার রাতে নাতি ইরফানকে নিয়ে একটি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন ঠাকুমা। মাঝরাতে ঝড়ের সময় তিনি বাইরেও বের হন। ঝড় থামলে আবার ঘুমোতে যান। কিন্তু এদিন সকালে ঠাকুমাকে ডাকতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ঘরে নেই। পরে দেখা যায়, ঘরের পাশে গলা কাটা দেহ পড়ে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পাশের বাড়ির কলপাড়ে থাকা একটি কাপড়ে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে। পাশে কুয়োর পাড়েও রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, বৃদ্ধাকে খুনের পর আততায়ী ওই কাপড়ে হাত মুছেছে। কুয়োর জলে সম্ভবত সে হাত ধুয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ