


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: দোকানে বিদেশি প্রজাতির কুকুর বেঁধে বেআইনি মদের কারবার চালাচ্ছিলেন প্রাক্তন বিশ্বহিন্দু পরিষদ নেতা। পুলিশ অভিযান চালাতেই কুকুরের বাঁধন খুলে লেলিয়ে দিলেন। নিজের পোষ্যকে ঢাল করে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাও করলেন। যদিও সেই চেষ্টা বিফলে যায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাড়া করে তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার সন্ধ্যায় ভূপতিনগর থানার ডুমুরদাঁড়ি গ্রামের ঘটনা। ধৃতের নাম সাধন দাস। বাড়ি ডুমুরদাঁড়ি গ্রামেই। বৃহস্পতিবার ধৃতকে কাঁথি এসিজেএম কোর্টে পেশ করা হয়।
জানা গিয়েছে, প্রায় ছ’বছর আগে বিশ্বহিন্দু পরিষদের মণ্ডল প্রমুখ ছিলেন সাধন। তারও আগে তিনি মুম্বইয়ে থাকতেন। সেখানেও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তবে, তিন-চার বছর ধরে ধর্মীয় সংগঠন ছেড়ে বাড়ির কাছে একটা রেস্টুরেন্ট গড়ে রোজগারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। সেই রেস্টুরেন্টে বেআইনিভাবে মদ বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ। সেই দোকানে বিদেশি জাতের একটি কুকুর বেঁধে রাখতেন। এর আগেও পুলিশ তাঁর দোকানে অভিযান চালিয়েছিল। তখনও কুকুর লেলিয়ে রেহাই পেয়েছিলেন সাধন।
সম্প্রতি ইটাবেড়িয়া ফাঁড়ি ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্বভার পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকে সাধন দাসের এই কীর্তির কথা জানতে পেরে বুধবার সন্ধ্যায় টিম নিয়ে রেস্টুরেন্টে হানা দেন। আগের মতোই সাধন তার পোষ্য ঘণ্টুকে ছেড়ে দেয়। শুধু ছেড়ে দেওয়াই নয়, ‘পুলিশকে খা’ বলে পোষ্যকে লেলিয়ে নিজে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পিছু নেন পুলিশ অফিসাররা। তারাও দৌড়তে শুরু করেন। তবে, ঘণ্টু তার প্রভুর নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশের উপর চড়াও হয়নি। সেই সুযোগে পুলিশ খুব সহজে বেআইনিভাবে মদ বিক্রির অভিযোগে সাধনকে গ্রেপ্তার করে নেয়।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দৈনিক পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। অথচ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের সংখ্যা মাত্র ২৯২টি। এই অবস্থায় অনেক জায়গায় গোপনে দেশি, বিদেশি মদ বিক্রির ঘটনা ঘটে। কখনও কখনও স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া মদও জোগান থাকে। নাগালের মধ্যে থাকায় সুরাপায়ীরা সেইসব দোকানের উপর ভরসা করেন। জেলাজুড়ে এরকম প্রচুর দোকান আছে। তাদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে পুলিশ ও আবগারি দপ্তর অভিযান চালায়। সাধন নিজের রেস্টুরেন্টে লাইসেন্স ছাড়াই মদ বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ। এদিন আদালতে তোলার সময় সাধন দাস বলেন, এক সময় আমি বিশ্বহিন্দু পরিষদ করতাম। এখন আর কোনও দল কিংবা সংগঠন করি না। নিজে একটা রেস্টুরেন্ট বানিয়েছি। তারউপর রুজিরুটি নির্ভর করে। তবে, সেখানে মদ রাখাটা ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে আর কখনও রাখব না।’
কুকুর লেলিয়া দেওয়ার মুহূর্ত। নিজস্ব চিত্র