Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাঙড়ে পুকুর ভরাট রুখল পুলিশ, খেয়াদহে জলাভূমি বুজিয়ে নির্মাণ

জলাজমি থেকে পুকুর– অসাধু চক্রের দাপটে সবই ভরাট করে নির্মাণ চলছে। সোমবার বিশ্ব জলাভূমি দিবসে, ভাঙড় থেকে সোনারপুর পর্যন্ত এলাকায় এই প্রবণতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগে পরিবেশকর্মীরা।

ভাঙড়ে পুকুর ভরাট রুখল পুলিশ, খেয়াদহে জলাভূমি বুজিয়ে নির্মাণ
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জলাজমি থেকে পুকুর– অসাধু চক্রের দাপটে সবই ভরাট করে নির্মাণ চলছে। সোমবার বিশ্ব জলাভূমি দিবসে, ভাঙড় থেকে সোনারপুর পর্যন্ত এলাকায় এই প্রবণতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগে পরিবেশকর্মীরা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে ভাঙড় ২ ব্লকের বিজয়গঞ্জ বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের কাজ চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে মৎস্যচাষে ব্যবহৃত ওই পুকুরে একের পর এক ডাম্পার ঢুকে মাটি ফেলছিল। খবর পেয়ে উত্তর কাশীপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বেগতিক বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ভরাটের সঙ্গে যুক্তরা। পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ খাইরুল ইসলাম বলেন, এমন বেআইনি কাজ কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। দলের বা অন্য যে কেউ যুক্ত থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, আনন্দপুর লাগোয়া নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ওই চত্বরে কীভাবে জলাভূমি বুজিয়ে গোডাউন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এত বড় ঘটনার পরও হুঁশ নেই। খেয়াদহ জুড়ে এখনও চলছে জলাভূমি দখল করে নির্মাণকাজ। এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

খেয়াদহ এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, হোগলার জঙ্গল সাফ করে সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছে কয়েকদিন আগে। তার উপর স্থায়ী গোডাউন তৈরির কাজ করছেন কর্মীরা। এছাড়াও খেয়াদহ হাইস্কুলের সামনে দিয়ে যে রাস্তাটি সরাসরি বাচবরণতলা, উচ্ছেপোতা হয়ে নাজিরবাদ গিয়েছে, সেই রাস্তাতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কাঁচা মাটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি রাতে এই রাস্তা দিয়ে মাটির গাড়ি চলছে। সেগুলি আসলে ভরাট করছে এলাকার পুকুর, ডোবা, জলাজমি। কাঁচা মাটি রাস্তায় পড়ে যান চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে।

খেয়াদহ ১ এবং ২ পঞ্চায়েত এলাকায় চোখ ঘোরালেই দেখা যাবে বিস্তীর্ণ জায়গায় কীভাবে গজিয়ে উঠেছে একের পর এক কংক্রিটের নির্মাণ। তার বেশিরভাগই গোডাউন। ওয়েটল্যান্ডে এমন কাজ হচ্ছে কী করে, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। পঞ্চায়েত থেকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলাই বারিক এই নিয়ে বলেন, ওয়েটল্যান্ডের উপর শেড বা গোডাউন নির্মাণ হচ্ছে, এমন কোনো অভিযোগ আসেনি আমাদের কাছে। অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ