Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারাবছর অফিস বা থানার অন্য কাজে যুক্ত পুলিশকর্মীরাও থাকবেন মণ্ডপে

সারাবছর অফিস বা থানার অন্য কাজে যুক্তদেরও পুজোর সময় ময়দানে নামাতে চলেছে বাঁকুড়া পুলিশ। পুজোর দিনগুলিতে জেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

সারাবছর অফিস বা থানার অন্য কাজে যুক্ত পুলিশকর্মীরাও থাকবেন মণ্ডপে
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সারাবছর অফিস বা থানার অন্য কাজে যুক্তদেরও পুজোর সময় ময়দানে নামাতে চলেছে বাঁকুড়া পুলিশ। পুজোর দিনগুলিতে জেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এরফলে অন্যান্যবারের তুলনায় রাস্তায় পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে ‘বেয়াদপ’ রোমিওদের শায়েস্তা করতে ব্যবস্থা নিতে চলেছে বাঁকুড়া পুলিশ। রোমিওরা যাতে মহিলাদের ইভটিজিং না করতে পারে তার জন্য সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশকর্মীরা ভিড়ে মিশে থাকবেন। অশালীন আচরণ করামাত্র রোমিওদের পাকড়াও করা হবে। 

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, পুজোর সময় পুলিশ কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়। এবার অফিসের কর্মীদেরও আমরা মণ্ডপ সহ অন্যান্য জায়গায় কাজে লাগাব। নির্বিঘ্নে পুজোর দিনগুলি যাতে কাটে তারজন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহিলা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা দর্শনার্থীদের ভিড়ে নজরদারি চালাবেন। কেউ ইভটিজিং করলেই আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মণ্ডপ চত্বরে পুলিশকে সাহায্য করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ব্যাপারে পুজো উদ্যোক্তাদের বলা হয়েছে।  
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলাজুড়ে পারিবারিক ও বারোয়ারি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার দুর্গাপুজো হয়। শহর ও লাগোয়া এলাকায় এবার ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০টি পুজো হচ্ছে। তারমধ্যে প্রায় ২০টি বিগ বাজেটের পুজো রয়েছে। শহরজুড়ে বিভিন্ন মণ্ডপে থিমের ছড়াছড়ি। থিমের মণ্ডপ দেখতে শহরের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামগুলি থেকেও অনেকে ভিড় করেন। সবমিলিয়ে পুজোর দিনগুলিতে সন্ধ্যার পর থেকে লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নামেন। অনেকে সপরিবারে পুজো দেখতে বের হন। মাঝেমধ্যে ভিড়ে গয়না ছিনতাই বা পকেটমারি হয়। পাশাপাশি মহিলাদের সঙ্গে পুরুষদের একাংশ অভব্য আচরণ করে। বহু যুবতী ইভটিজিংয়ের শিকার হন। কিশোরীরাও ইভটিজারদের হাত থেকে রেহাই পান না। ইভটিজারদের রুখতে মহিলা কর্মী ও উইনার্স টিম পুলিশের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে।
পুজোর সময় বাঁকুড়া শহরে পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ার মিলিয়ে হাজারের বেশি কর্মী-আধিকারিক মোতায়েন করা হয়। জেলাজুড়ে সংখ্যাটা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি থাকে। তাঁদের মধ্যে আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের একাংশ সাদা পোশাকে থাকেন। পোশাক পরিহিত পুলিশকর্মীরা সাধারণত যানবাহন ও দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করেন। সাদা পোশাকের পুলিশ ভিড়ের উপর নজর রাখে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ভিড়ের মধ্যে যুবকদের একাংশ মহিলাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। তারা সাধারণত দলবেঁধে থাকে। অনেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও মহিলা দর্শনার্থীদের উত্ত্যক্ত করে। নানা অছিলায় ওই ধরনের যুবকরা মহিলাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এবার ইভটিজারদের রুখতে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছি।  পুলিশের আধিকারিকদের দাবি, সাধারণত অন্যান্য শহরের তুলনায় বাঁকুড়ায় ইভটিজিংয়ের ঘটনা কম ঘটে। থানায় তেমন অভিযোগও দায়ের হয় না। তবুও যাতে কেউ অশালীন আচরণ করতে না পারে তারজন্য সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশ কর্মীদের ভিড়ের মধ্যে মোতায়েন করা হবে। তারফলে ভিড়ে মিশে থাকা ইভটিজারদের দ্রুত চিহ্নিত এবং আটক করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি সেরে ফেলা হয়েছে। এক পুলিশকর্মী বলেন, সারাবছর আমরা অফিসিয়াল কাজ করি। থানার বা পুলিশ লাইনের কর্মীদের মতো আইনশৃঙ্খলা সামলাতে হয় না। ফলে অভিজ্ঞতা কিছুটা কম রয়েছে। তবে পুজোর সময় মণ্ডপে ডিউটি করতে কোনও অসুবিধা হবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ