Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অরূপ বিশ্বাসের নিউ আলিপুরের বাড়িতে এবার পুলিশি নোটিস

অরূপ বিশ্বাসের নিউ আলিপুরের বাড়িতে পুলিশি নোটিস সাঁটানো হয়েছে। তদন্তে হাজিরা না দিলে আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা। বিস্তারিত পড়ুন।

অরূপ বিশ্বাসের নিউ আলিপুরের বাড়িতে এবার পুলিশি নোটিস
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলিং বেল বাজালেও প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বাড়ির দরজা খুলল না কেউ!  কাউকে না পেয়ে রবিবার বিকালে  তাঁর বাড়ির দরজায় নোটিসের কপি সাঁটিয়ে দিয়ে গেল পুলিশ। যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডে আজ, সোমবার বেলা ১১ টায় তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। যদি তিনি হাজির না হন, সেক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে বিধাননগর কমিশনারেট। প্রাক্তন মন্ত্রী কি তবে বেপাত্তা হয়ে গেলেন? এই প্রশ্নে জমছে জল্পনা। অসুস্থতার কথা বলে এই মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় চেয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু সেই সময় দিতে নারাজ তদন্তকারীরা। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই কি হাজিরা এড়াতে চাইছেন অরূপবাবু?

Advertisement

এই ডামাডোলের মধ্যে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর আরও কীর্তি-কাহিনি সামনে আসছে। জানা যাচ্ছে, কলকাতা পুলিশের সাউথ সাবারবান ডিভিশন (এস এস ডি)-এর বেতাজ বাদশা ছিলেন ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’। পুলিশ মহলের একাংশের দাবি, এই ডিভিশনের ডিসি বা ওসি কারা হবেন, সেটি নিয়ন্ত্রণ করতেন  অরূপ ও স্বরূপ। এই ডিভিশনে অপরাধ হয় না— এমন তথ্যই তুলে ধরার জন্য থানার কাছে নির্দেশ যেত। বলা থাকত, অভিযোগ এলেও কোনো কেস লেখা যাবে না। সব কিছু আপসে মিটিয়ে ফেলতে হবে। ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলে তাও চেপে যেতে হবে! প্রয়োজনে অভিযোগকারিণীকে ডেকে বোঝাতে হবে। তারপরও কাজ না হলে ‘অন্য ওষুধ’ দেওয়ার নির্দেশ ছিল বিশ্বাস ভাইদের। নারী নির্যাতনের অভিযোগ জমা পড়লে ওসি সহ ডিভিশনের সবার কাছে নির্দেশ ছিল, দুই বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে। এমনকি, সাধারণ মানুষ বা বিরোধী দলের নেতাদের ফোন  না ধরতেও অলিখিত নির্দেশ ছিল এই দুই দাপুটে নেতার। দুই ভাইয়ের চাপে  এই ধরনের অভিযোগ এলেউ থানা বুঝিয়ে বা আইনি বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে অভিযোগকারীকে নিরস্ত করত। এমনকি, কেউ জোর করে অভিযোগ দায়ের করলে স্বরূপ হুমকি দিয়ে তাঁদের বাধ্য করতেন কেস তুলে নিতে। তারপরও যদি লালবাজারের চাপে মামলা রুজু হত, তখন সরাসরি তদন্তকারী অফিসারদের কাছে কেস ‘হালকা’ করে দেওয়ার নির্দেশ যেত। এতসবের পরও দু’-একজন বলিষ্ঠ পুলিশ অফিসার আইন মেনে কাজ করতে গিয়ে বিশ্বাস ভাইদের রোষের মুখে পড়েছেন। তৃণমূল আমলে এই ডিভিশন ছাড়া কলকাতা পুলিশের আর যেসব থানায় অলিখিত ‘বস’ ছিলেন ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’,  সেখানে ১৫ বছরে নারী নির্যাতন বা ধর্ষণের অভিযোগের 
তদন্ত কী হয়েছে, আদালতে কতগুলি তদন্ত বন্ধ করার রিপোর্ট জমা পড়েছে, তার ফাইল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।

সম্পর্কিত সংবাদ