নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিদিন সন্তানদের বাইক-স্কুটিতে বসিয়ে স্কুলে ছাড়তে আসছেন অভিভাবকরা। স্কুল ছুটির পর নিয়ে যাচ্ছেন একইভাবে। পড়ুয়াদের রাস্তা পারাপার ও নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি কোন অভিভাবক হেলমেট পরছেন বা কে পরছেন না কিংবা কার হেলমেট না পরার জন্য একাধিক মামলা রয়েছে, সবটাই নজরে রয়েছে পুলিশের। তিন মাস ধরে চুপিসারে এই সমীক্ষা করে গিয়েছে তারা। এবার হেলমেটহীন অবস্থায় বাইক-স্কুটি চালানোর মামলা নেই এমন ১৭ অভিভাবককে আচমকা সম্মান জানাল কলকাতা পুলিশ। পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে পুলিশের এই ভিন্ন রূপ দেখা গেল। ‘দায়িত্বপূর্ণ চালক’ তকমা দেওয়া হয়েছে যে অভিভাবকদের, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিশেষ স্মারক।
শুক্রবার বালিগঞ্জের ম্যান্ডেভিলা গার্ডেনের কাছে একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কলকাতা পুলিশের সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ড। স্কুলের সামনে বাইক-স্কুটির চালক অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বপূর্ণ চালক হিসাবে চিহ্নিত করেন ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা। হাজির ছিলেন সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের অফিসার ইন চার্জ অমরেশ ঘোষ সহ অন্যান্য আধিকারিক ও সার্জেন্টরা। ছিলেন স্কুলের বহু পড়ুয়ার অভিভাবক। তাঁদের মধ্যে বাছাই করা ১৭ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক। কীভাবে বাছাই করা হল আইন সচেতন অভিভাবকদের? পুলিশ সূত্রে খবর, ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন সংলগ্ন বেসরকারি স্কুল সংলগ্ন এলাকাটি দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম অভিজাত ও ব্যস্ততম জায়গা। সেখানে প্রতিদিন বহু পড়ুয়া আসে। তাঁদের ছাড়তে অনেক অভিভাবক দ্বিচক্র যান ব্যবহার করেন।
পুলিশ নিয়মিত হেলমেট ব্যবহারকারীদের বাইক সমেত ছবি গোপনে তুলেছে। তাঁদের বাইক বা স্কুটারের নম্বর প্লেটের ছবি থেকে পুরনো মামলার তথ্য খুঁজেছে। যাঁদের বিনা হেলমেটের কেস নেই তাঁদের পৃথক করেছে। তাঁদের মধ্যে থেকে যাঁদের মোট মামলার সংখ্যা কম তাঁদের পৃথকভাবে চিহ্নিত করেছে। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ বাইক-স্কুটি চালক চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের কারও গত ৩ মাসে কোনো বিনা হেলমেটে শহরের কোথাও জরিমানার তথ্য মেলেনি। একইসঙ্গে ট্রাফিক বিধির বাকি ধারাতেও তাঁদের নামে কোনো কেস নেই এই সময়ের মধ্যে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিহ্নিত অভিভাবকদের ফোন করে পুলিশ। তারপর শুক্রবার সকালে স্কুল ছুটির পর তাঁদের সম্মানিত করা হয়। পুলিশের কেসের পরিবর্তে স্মারক উপহার পেয়ে খুশি অভিভাবকরা। আনন্দরূপ দাশগুপ্ত নামে এক অভিভাবক ‘দায়িত্বপূর্ণ চালক’য়ের তকমা পেয়ে খুব খুশি। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ একেবারে অভিনব। পুলিশ যে শুধু কেস দেয় তা নয়, সম্মানও দেয় তা জানা গেল। এই উদ্যোগে বাকি অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়বে।’ নিজস্ব চিত্র