


পাটনা: যোগীরাজ্যের পর এবার বিহারেও ঘুম ছুটেছে দুষ্কৃতীদের। কারণ, কুখ্যাত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নেমেছে নীতীশ কুমার প্রশাসন। গত তিনমাস ধরে চলছে অভিযান, যার পোশাকি নাম ‘অপারেশন ল্যাংড়া।’ এমন নামের কারণ নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। পুলিস জানিয়েছে, গত তিন মাসে ন’ জনের বেশি দাগি দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন চলাকালীন পুলিসকর্মীদের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে দুষ্কৃতীরা। তখন আত্মরক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি চালাতে হচ্ছে। মূলত দুষ্কৃতীদের পায়ে গুলি চালায় পুলিস। যে কারণে কোনওপ্রকার প্রাণহানি ছাড়াই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সহজ হয়ে যাচ্ছে। এমন ঘটনার সূত্র ধরেই নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ল্যাংড়া।’
বিহারজুড়ে দুষ্কৃতীরাজ ভাঙতে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিস। এর সঙ্গে অনেকেই উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন। পুলিস জানিয়েছে, অপারেশন শুরু হতেই অনেক দুষ্কৃতী আত্মসমর্পণ করেছে। গত ১৭ আগস্ট আলমগঞ্জে অভিযানে গিয়ে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে এনকাউন্টার শুরু হয়েছিল। পুলিস পাল্টা গুলি চালালে বিজয় সাইনি নামে এক অপরাধী জখম হয়। স্বাধীনতা দিবসের দিনেও দিব্যাংশু ওরফে অংশু নামে উত্তরপ্রদেশের এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পালানোর সময় পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে অংশু জখম হয়। তার ব্যবহৃত রিভলভারটি উদ্ধার হয়েছে। গত ৬ আগস্ট ফুলওয়াড়ি শরিফে রোশন নামে এক দুষ্কৃতী পুলিসের রাইফেল ছিনিয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকেও পায়ে গুলি করা হয়। গত ২২ জুলাই পাটনার হাসপাতালে গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্র খুনে অভিযুক্ত দুই শার্প শ্যুটার বলবন্ত ও রবিরঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এছাড়াও গত ২৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয় গ্যাংস্টার রাজা জেপিকে। ওই মাসে দানাপুর থেকে কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিবেক কুমারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। তার মাথার দাম ছিল ২৫ হাজার টাকা। পাটনা পুলিস জানিয়েছে, রাজ্যের মানুষ যাতে নির্ভয়ে বসবাস করতে পারেন, সেজন্য দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে চলছে ‘অপারেশন ল্যাংড়া।’ বিহার পুলিসের ডিজি বিনয় কুমার বলেন, ‘দুষ্কৃতীরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার স্বার্থে জবাব দেবেন পুলিস কর্মীরা।’