


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল পড়ুয়াকে গাড়িতে তুলে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনার এক মাস পর সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন নাবালিকার মা। তার ভিত্তিতে গণধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে লালবাজার।
১৮ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটে। নাবালিকার মায়ের দাবি, মেয়ের সঙ্গে আরও এক বান্ধবী ছিল। অষ্টম শ্রেণির দুই পড়ুয়া স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। বেহালার কাছে তাদের একটি গাড়ি লিফট দিতে চায়। দু’জনেই সেই গাড়িতে উঠে পড়ে। গাড়িতে দু’জন অপরিচিতি যুবক ছিল। অভিযোগকারিণীর দাবি, এরপরেই চকোলেটের মাধ্যমে মেয়েকে মাদক মিশিয়ে অচৈতন্য করে দেওয়া হয়। তারপর শুনশান কোনো জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০ মে সরশুনা থানার দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ জানান নাবালিকার মা। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার এক মাস পরে কেন অভিযোগ? অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, লোকলজ্জার ভয়ে এই বিলম্ব। এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন রয়েছে তদন্তকারীদের মনে। দুই নাবালিকাকে অপরিচিত ব্যক্তি লিপট দিতে চাইলেও তারা উঠল কেন? কেন শুধুমাত্র এক নাবালিকাকে চকোলেট খাওয়ানো হল? বান্ধবী অচৈতন্য হয়ে গেলেও তার বান্ধবী চিৎকার করল না কেন? চোখের সামনে বান্ধবীকে গণধর্ষিতা হতে দেখেও কেন চুপ রইল দ্বিতীয় নাবালিকা? ওই স্কুল পড়ুয়ার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে আরও কিছু তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী অফিসার সূত্রে খবর, অভিযুক্ত এবং ওই নাবলিকা একে অপরের পরিচিত বলে জানা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তা নিয়ে আগেও দুই পরিবারের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আদালতে নাবালিকার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হবে।