Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাসপাতাল দালালরাজ মুক্ত হবে, স্বাস্থ্যভবনে সারপ্রাইজ ভিজিট এসে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকারি হাসপাতালে দালালরাজ মুক্ত করতে কন্ট্রোল রুম তৈরি হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

হাসপাতাল দালালরাজ মুক্ত হবে, স্বাস্থ্যভবনে সারপ্রাইজ ভিজিট এসে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
  • ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, বৃহস্পতিবার আচমকাই স্বাস্থ্যভবন পরিদর্শনে এলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে যাওয়ার আগে হঠাৎই সারপ্রাইজ ভিজিটে আসেন তিনি। সেখানে তৈরি হওয়া কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখেন তিনি। কথা বলেন সেখানে থাকা স্বাস্থ্য কর্মী ও আধিকারিকদের সঙ্গেও। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এবার এখান থেকেই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে নজরদারি চালানো হবে। মূলত সরকারি হাসপাতালে দালালরাজ খতম করার জন্য এই কন্ট্রোল রুম অত্যন্ত কাজে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গত সরকারের আমলে একাধিকবার সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের অভিযোগ উঠেছে। সমস্যা সমাধানের কথা হলেও তা বাস্তাবায়িত হয়নি। কিন্তু এবার কন্ট্রোলরুম থেকে লাইভ মনিটারিংয়ের মাধ্যমে তা রোখা সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৩০ জুলাই থেকে শহরের পাশাপাশি জেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতেও নজরদারি চালানোর কাজ শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও দালালকে আজ হাসপাতালে দেখা গেলে কাল আর তাকে দেখা যাবে না। সব হাসপাতাল দালালরাজ মুক্ত হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিষেবা উন্নয়নেও জোর দিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। রোগীদের খাবারের বরাদ্দের টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগে যা ছিল মাত্র ৫৪ টাকা। তা বাড়িয়ে এখন ১১০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে খাবারের মান বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, কাজের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কর্মীদের বিভিন্ন রঙের ব্যাজও দেওয়া হবে। এদিন তিনি বলেন, বড় বিপর্যয় ঘটে দ্রুত পরিষেবার প্রয়োজন পড়ে। ২৫০ জনকে একসঙ্গে পরিষেবা দেওয়া যায় এর জন্য একটি ট্রমা সেন্টার তৈরি করা হবে। শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আদানি গ্রুপ নিউটাউনে ২০০০ বেডের আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করবে। যার মধ্যে ১০০০ বেড থাকবে গরীব ও সাধারণ মানুষদের জন্য। খুব শীঘ্রই ওই হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে।  

Advertisement

প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন রেফার, বেড না পেলে রোগী ভর্তি, রোগী পরিষেবায় নজরদারি সহ একাধিক কাজকর্ম রূপায়ণে স্বাস্থ্যভবনে ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে। সেই অনুযায়ী গত ১ জুলাই চিকিৎসক দিবসের দিন স্বাস্থ্যভবনের দোতলায় চালু হয়েছে এই কন্ট্রোল রুম। ২৮ আধিকারিক-কর্মী নিয়ে পথ চলা শুরু করেছে এটি। সেখানে থাকবেন চিকিৎসক, সিনিয়র নার্স, সহকারি বা ডেপুটি সুপার (নন মেডিকেল) এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। তিন শিফটে কাজ চলবে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত। এরপর দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা। মোটের উপর ২৪ ঘণ্টা, সাতদিনই চালু থাকবে এটি। এর সঙ্গে জুড়েছে রেফারেল কন্ট্রোল রুমও। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, এই কন্ট্রোল রুম প্রায় মিনি স্বাস্থ্যদপ্তরের ভূমিকা পালন করবে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী রেফার করা হলে তাঁকে পাঠানোর আগে রেফার্ড হাসপাতালের চিকিৎসক-প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলে বেড সুনিশ্চিত করে তবেই পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। দ্বিতীয়ত, আউটডোর হোক বা ইনডোর, অপারেশন থিয়েটার হোক বা প্যাথোলজি—হাসপাতাল এবং চিকিৎসক-কর্মীদের পারফরমেন্সের দিকেও নজর রাখবে। তৃতীয়ত, মিডিয়ায় প্রচারিত বিভিন্ন খবর ট্র্যাক করে সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চতুর্থত, কোনও বড় ঘটনা, দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জখমদের চিকিৎসার কাজে মনিটরিং করবে। পাঁচ, হাসপাতালে অবাঞ্ছিত এবং সন্দেহজনক মানুষের গতিবিধির দিকে লক্ষ্য রাখা ইত্যাদি কাজ করবে। এগুলি সবই সম্ভব হবে হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো সিসিটিভির উপর ভিত্তি করে। যার ফিড চলে আসবে স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুমে। জানা যাবে হাসপাতালে বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র। এর ফলে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ