Bartaman Logo
৩০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালিশির আগে নির্যাতিতা বধূর মায়ের রহস্যমৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

পাশের বাড়ির ছেলের সঙ্গে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই অশান্তি। সমাধান খুঁজতে বুধবার সালিশি সভার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এদিন সাত সকালে মেয়ের মায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল বাড়ি থেকে।

সালিশির আগে নির্যাতিতা বধূর  মায়ের রহস্যমৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
  • ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: পাশের বাড়ির ছেলের সঙ্গে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই অশান্তি। সমাধান খুঁজতে বুধবার সালিশি সভার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এদিন সাত সকালে মেয়ের মায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল বাড়ি থেকে। সালার থানার শালিন্দা গ্রামের এমন ঘটনায় গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম হাফিজা খাতুন শেখ (৪৬)। শালিন্দা গ্রামের দক্ষিণ পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। সালার থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাফিজার স্বামী জানবার শেখ কর্মসূত্রে সৌদিতে থাকেন। বাড়িতে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকতেন। ছেলেমেয়ে দুজনেই মূক ও বধির। ছেলে গুজরাতে পরিযায়ী শ্রমিক। বছর চারেক আগে পাশের বাড়ির গাজল শেখের সঙ্গে মেয়ে ইসমতারা ওরফে মিলি খাতুনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মৃতার জা রহিমা খাতুন বলেন, প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা খরচ করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন জানবার ভাই। জামাইও সবকিছু জেনেশুনেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু। প্রায়দিনই বোনঝিকে মারধর করা হতো।
এমন অবস্থায় গত শুক্রবার ফের মিলিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করে বলে অভিযোগ। মারধরের পর মিলির পরিবারের পক্ষ থেকে সালার থানায় অভিযোগ জানানো হয়। এদিন দুই পরিবারকে নিয়ে সালিশি হওয়ার কথা ছিল। মৃতার ভাই নিজাম শেখ বলেন, এদিন সকালে সালিশিতে যেতে হবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তাতেই বোনের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে এখানে চলে আসি। আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না। পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছি।
এদিকে মৃতার দেহ উদ্ধার হতেই মিলির শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এতে বাসিন্দাদের সন্দেহ বেড়ে যায়। এক বাসিন্দা বলেন, দুই বাড়ির মধ্যে মাঝে একটি লোহার গেট রয়েছে। যে গেট দিয়ে দুই বাড়ির মধ্যে আসা যাওয়া করা যায়। দেহ উদ্ধারের সময় ওই গেটটি খোলা ছিল। এদিকে মিলির শ্বশুরবাড়ির বাকি লোকজন চলে গেলেও তাঁর শাশুড়ি মুকুলা বিবি প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বউমার উপর কোনো অত্যাচার করা হতো না। সংসারে থাকতে গেলে যতটুকু হয়, সেইটকুই হতো। আজ সালিশি হবে, সেই কথাও আমার জানা নেই। বেয়ান কী কারণে মারা গেল জানি না, তবে আমরাও চাইছি পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। সালার থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ