নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত অথচ বেতন তুলে যাচ্ছে, এমন সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ শুরু করল রাজ্য পুলিশ। ইতিমধ্যেই এহেন সিভিকদের ঝাড়াইবাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। পাশাপাশি ভুয়ো সিভিকদের চিহ্নিত করে ফেলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভুয়ো, কাজে অনুপস্থিত ও পারফরমেন্সহীন এমন সিভিকের সংখ্যা প্রায় তিরিশ শতাংশ বলে খবর। তাদের নাম রেজিস্টার থেকে বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে।
পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন সিভিক ভলন্টিয়ারদের ঝাড়াইবাছাই শুরু হবে। কারণ তৃণমূল আমলে সিংহভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর কোন জেলায় কত সিভিক রয়েছেন তার তথ্য চাওয়া হয় পুলিশ ডিরেক্টরেটের তরফে। জেলাগুলি থেকে আসা রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে অফিসাররা জানতে পারছেন, বহু জেলাতেই ডিউটি করে না অথচ প্রতি মাসে মাহিনা তোলে, এমন বহু সিভিক রয়েছে। যাদের চিহ্নিত করে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নির্দেশিকা জারি করে এই সমস্ত সিভিকদের রেজিস্টার খাতা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে খবর। কর্তারা জেনেছেন, এই সমস্ত সিভিকরা সকলেই তৃণমূলের সদস্য। খাতায়কলমে ডিউটি দেওয়া হতো তাদের। বাস্তবে এরা কাজে যেত না। দলেরই কাজ করার পাশাপাশি অনেকেরই ব্যক্তিগত ব্যবসা রয়েছে। অন্য জেলাগুলিতে এই প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি অস্তিত্বহীন ভুয়ো সিভিকদের চিহ্নিত করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া শুরু হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি কে বা কারা খুলেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।এই সমস্ত সিভিকদের রেজিস্টার থেকে নাম বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠ ও লিখিত পরীক্ষায় যে সমস্ত সিভিক নির্দিষ্ট মান পেরোতে পারবে না, তাদেরও বড়সড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। সবমিলিয়ে তিরিশ শতাংশ সিভিকের চাকরি সংকটের মুখে পড়ার সম্ভাবনা। এরসঙ্গে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের তরফে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, যারা উপযুক্ত পারফরমেন্স করতে পারবে না, তাদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝাড়ইবাছাই পর্বে উঠে এসেছে সিভিকদের একটা বড় অংশ একাধিক জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কিনেছে তৃণমূল জমানায়। কীভাবে তা সম্ভব হল, চলছে অনুসন্ধান।