Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিউটিতে না এসেও ভাতা তুলছেন সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশ, তথ্য পাচ্ছে পুলিশ

ডিউটিতে না এসেও ভাতা তুলছেন সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশ, তথ্য পাচ্ছে পুলিশ
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় এসেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের  বেতন বাড়িয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তবে সঙ্গে শুরু হয়েছে ঝাড়াইবাছাই। লক্ষ্য, মমতা সরকারের আমলে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে যে ১ লক্ষ ৩০ হাজারকে নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা সবাই ‘আসল’ কি না। ঝাড়াইবাছাই করতে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসছে পুলিশের। ‘খাতায়কলমে’  উপস্থিতি দেখানো হলেও, বাস্তবে ডিউটিতে না এসেই বছরের বছর সরকারের কাছ থেকে ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন ওই সিভিকদের একাংশ। অভিযোগ, এহেন সিভিকরা সকলেই তৃণমূলের কর্মী। আবার কেউ ভোট কুশলী সংস্থার কর্মী। অস্তিত্বহীন ভুতুড়ে ব্যক্তিও পেয়েছে সিভিকের চাকরি। এখনও পর্যন্ত অস্তিত্বহীন এবং কাগজে কলমে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা ২৫ হাজারের কাছাকাছি বলে জানা যাচ্ছে। ঝাড়াই বাছাই পর্ব শেষে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এখানেই থেমে থাকবে না সরকার। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে চলবে মামলা।  

Advertisement

ক্ষমতায় আসার এক বছর পর ২০১২ সালে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। পুলিশ কর্মীদের সাহায্য করাটাই ছিল তাঁদের কাজ। প্রথম দিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়মকানুনই ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিধায়করা তালিকা পাঠাতেন জেলার এসপি’র কাছে। সেই অনুযায়ী পার্টির ছেলেদের নিয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে নিয়োগের ক্ষেত্রে নূন্যতম বয়সসীমা, উচ্চতা, শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি  ঠিক করা হয়। এই পর্বেও তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের পাঠানো তালিকা থেকে সিংহভাগ নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ। অল্পকিছু সংখ্যক নিয়োগ ছিল স্বচ্ছ। এমনকি সিভিক ভলান্টিয়ার পদে কাজের জন্য মাথাপিছু তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ‘তোলা’ও উঠেছে বলে অভিযোগ। পার্টির কোটায় চাকরি পাওয়া সিভিকরা কেউই থানায় বা ট্রাফিক গার্ডে না এসে দলের কাজকর্ম করতেন। মাসের শেষে বেতন ঢুকে যেত।  
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই  সিভিকদের ঝাড়াই বাছাই শুরু করার নির্দেশ আসে নবান্ন থেকে। প্রাথমিক একটা তালিকা জেলাগুলি জোগাড়ও করে ফেলে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন সিভিকদের ঝাড়াই বাছাই করা হবে। কীভাবে এই প্রক্রিয়া চলবে স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে নির্দেশ গিয়েছে সমস্ত জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিটি জেলা থেকে সিভিকদের সম্পূর্ণ তালিকা, নিয়োগের তারিখ, সুপারিশকারী ব্যক্তির নাম, কোথায় পোস্টিং, তার সব কিছু পাঠাতে হবে। সেই সঙ্গে জমা দেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি, দৈহিক উচ্চতার প্রমাণপত্র ও পুলিশি ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেবে জেলাগুলি। নবান্নের নির্দেশ, গত দু’বছরে ডিউটিতে সিভিকদের উপস্থিতির হার খতিয়ে দেখতে হবে। রাজনৈতিক সুপারিশ বা দলীয় কোন প্রভাব রয়েছে কিনা দেখবে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পারছেন, প্রতিটি জেলায় তৃণমূলের সুপারিশে নিয়োগ হওয়া বহু সিভিক রয়েছেন। তাঁদের কারও পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয়নি। জমা পড়েনি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দৈহিক উচ্চতা সংক্রান্ত নথি। তারা অফিসে না এসেই ভাতা পাচ্ছেন। সপ্তাহে একদিন এসে হাজিরা খাতায় সই করছেন।  এমনকি প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, খাতায়কলমে  সিভিক বলে দেখানো ব্যক্তির অস্তিত্বই নেই। ভুয়ো নথি দিয়ে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখান জমা পড়ছে সরকারি ভাতা। তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ