সংবাদদাতা, বারুইপুর: শনিবারই সূর্যপুর ফাঁড়ি উদ্বোধন করার পর এলাকার মানুষজনকে ভয়-ভীতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরার আবেদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়োজনের পুলিশ সুপারকে মাইকিং করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাই রবিবার সকাল থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন ফাঁড়ির কর্তব্যরত আধিকারিকরা। জনসংযোগের পাশাপাশি স্থানীয় দোকানদার টোটো চালক, পথচারী থেকে এলাকার বাসিন্দা প্রত্যেকের সঙ্গেই কথা বলেন তাঁরা। এলাকার কোথায় সিসিটিভি লাগালে ভালো হয়, কী সুবিধা অসুবিধে রয়েছে প্রভৃতি জানার চেষ্টা করেন তাঁদের থেকে। ভয় ছেড়ে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে তারা।
সূর্যপুর হাটে গিয়ে এদিন দেখা গেল, ইতিমধ্যে দশটি জায়গায় একটি করে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের থেকে নেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী আরও সিটিভি বসানো হবে। ফাঁড়ির মধ্যে কন্ট্রোল রুম গড়ে সেখান থেকে চলবে নজরদারি। পরিকল্পনা যা, তাতে ফাঁড়ির আওতাধীন গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হবে সিসি ক্যামেরায়। বাজারে, পাড়ায় ও রাস্তায় চলছে পুলিশের মাইকিং। এখনো বেশকিছু মোড়ে পুলিশের পিকেট রয়েছে। টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। আগের থেকে দোকানপাট বেশি খুলেছে। স্বাভাবিক হচ্ছে পরিবেশ।
গণপিটুতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল ও নির্যাতিতার বাড়ির বাইরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিমতো একজন করে কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, ইন্দ্রজিতের বাড়ি সারাইয়ের উদ্যোগ আগেই নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। এদিন তাঁর বাড়িতে নতুন করে বিদ্যুৎসংযোগ, আলো, পাখা প্রভৃতি লাগানোর কাজ শুরু হয়। এদিনও বাড়ির একাংশে প্লাস্টার করা হয়। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মৃতের দাদা বাপি মণ্ডলকে এই ফাঁড়িতেই সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, আজ সোমবার থেকে কাজে যোগদান করবেন তিনি।