Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নার্সিংহোমে সিজারের পর প্রসূতির দু’টি কিডনির ক্ষতি,সামসিতে আদালতের নির্দেশে মামলা পুলিশের

নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির দু’টি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল মালদহের সামসি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রসবের সময় চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়।

নার্সিংহোমে সিজারের পর প্রসূতির দু’টি কিডনির ক্ষতি,সামসিতে আদালতের নির্দেশে মামলা পুলিশের
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির দু’টি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল মালদহের সামসি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রসবের সময় চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। পরে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। ঘটনায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন প্রসূতির স্বামী রহিম আলি।

Advertisement

রতুয়া থানার হরিপুরের বাসিন্দা রহিমের অভিযোগ, গত বছরের ১৯ আগস্ট প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে স্ত্রী রেশমিরা খাতুনকে সামসির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। সেখানে সিজার করে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারির অভাবে রেশমিরার অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে। প্রথমে তাঁকে মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১৩ অক্টোবর ছাড়া হয় রেশমিরাকে।

পরিবারকে চিকিৎসক জানান, প্রসূতির দু’টি কিডনি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর রেশমিরার পরিবার কিডনি পাচারের চেষ্টার সম্ভাবনাও দেখছে। অভিযোগ, যে নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচার করা হয়, তার মালিক চিকিৎসক না হয়েও অস্ত্রোপচারে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, অস্ত্রোপচার নাকি করেছিলেন অস্থি চিকিৎসক। প্রথমে পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেও কাজ না হওয়ায় চাঁচল মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হন রহিম। নার্সিংহোমের মালিক, একজন চিকিৎসক, দু’জন ম্যানেজার ও এক কর্মীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশে এখন তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তবে, পুলিশের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রহিমের আইনজীবী ওয়াসিম আক্রাম। বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। অঙ্গপাচার সংক্রান্ত যে ধারাগুলি যুক্ত হওয়ার কথা, তা পুলিশ এড়িয়ে গিয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এফআইআর করা হয়েছে। তদন্ত আদালতের নির্দেশ মেনেই হচ্ছে। মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ নেই। অভিযোগ মুলত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এক্তিয়ার আমাদের নেই। বিষয়টি মেডিকাল কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

এদিকে নার্সিংহোমের মালিক মহম্মদ আনারুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত কোনও নথি হাতে আসেনি। সেসব না দেখে কিছু বলতে পারব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ