Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিশুকন্যার যৌন হেনস্তায় অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পুলিশ, রণক্ষেত্র মহিষাদল

মহিষাদলে ৩ বছরের শিশুকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের উপর হামলা। অভিযুক্ত শেখ মফিজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

শিশুকন্যার যৌন হেনস্তায় অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পুলিশ, রণক্ষেত্র মহিষাদল
  • ২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সাড়ে তিন বছরের শিশুকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে রণক্ষেত্র মহিষাদলের কাঞ্চনপুর। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ে পুলিশ। ধারাল অস্ত্রের কোপে জখম হন এক অফিসার। সঙ্গে থাকা সাব ইন্সপেক্টরের নাক ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে থাকা বিজেপি কর্মীরাও আক্রান্ত হন। এসব বাধা পেরিয়ে পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত শেখ মফিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। রাত আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনা হয়। বুধবার সকালেও ফের তেতে ওঠে গোটা এলাকা। ধৃতের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত মানুষজন। পাশাপাশি কাপাসএরিয়ায় পথ অবরোধও শুরু করেন। প্রায় ৪০ মিনিট হলদিয়া-কোলাঘাট ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ চলে। তীব্র যানজটের কবলে পড়েন যাত্রীরা। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। দুপুরের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

Advertisement

কাঞ্চননগর মৌজায় কাঁকুড়দা ক্যানাল পাড়ে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার রাস্তার ধারে ধৃত মফিজুলের সাইকেল সারানোর দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেই দোকানে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে স্থানীয় এক শিশুকন্যাকে ডাকে মফিজুল। সে দোকানে এলে যৌন হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। রাতেই ওই শিশুকন্যাকে মহিষাদলের বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে রেফার করেন। রিপোর্টে প্রকাশ, শিশুটি যৌন হেনস্তার শিকার। রাতেই শিশুকন্যার মা থানায় মফিজুলের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ তাকে গ্রেপ্তার করতে রওনা দেয়।
মফিজুলের বাড়ি কাঞ্চননগর গ্রামে। মহিষাদল থানার পুলিশ রাতে তার বাড়িতে পৌঁছতেই মফিজুল সহ আরও লোকজন বাধা দেয়। লাঠিসোটা, হাসুয়া, ছোরা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশের উপর। সেকেন্ড অফিসার সিদ্ধার্থ দে’র পায়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয়। আর এক সাব ইন্সপেক্টর শ্রীনিবাস সরের নাক ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরাও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আট-দশজন জখম হন। পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার খবর নিমেষেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পৌঁছে যায়। রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ বিশাল টিম চলে আসে কাঞ্চননগরে। শেষমেষ মফিজুলকে পাকড়াও করা হয়। এনিয়েও উত্তেজনা চরমে ওঠে। 
এদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ বিধায়ক সুভাষ পাঁজা এবং ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান রামকৃষ্ণ দাস প্রমুখ কাপাসএড়িয়ায় যান। সেখানে বিজেপি কর্মীরা নেতৃত্বদের সামনে রেখে মিছিল করেন। মিছিল শেষে নিগৃহীত শিশুটির বাড়িতে যান তাঁরা। এদিকে, উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়তে শুরু করে। ধৃতের সাইকেল সারানোর দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা হলে উল্টো দিক থেকে পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি শুরু হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার আগেই পুলিশ দু’পক্ষকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তারপর বিজেপি কর্মীরা কাপাসএড়িয়ায় প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধ শুরু করেন। মহিলারা সামনে থেকে অবরোধে নেতৃত্ব দেন।
ধৃত মফিজুলের পক্ষ নেওয়া এবং পুলিশের উপর হামলায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন মহিষাদলের বিধায়ক। বিজেপি কর্মীরাও মফিজুলের কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয় পুলিশকে। দিনভর এনিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। সাড়ে তিন বছরের এক শিশুর উপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে জোট বেঁধে প্রতিবাদে শামিল হন এলাকার মানুষ। নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক পুলিশ-প্রশাসন। এলাকায় পুলিশি টহল চলছে বলে রাতের খবর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ