


পাটনা: মাওবাদী মুক্ত বিহার। মাওবাদী নেতা সুরেশ কোড়া ওরফে মুস্তাকিমের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এই সাফল্য অর্জন করা গিয়েছে। এমনটাই দাবি প্রশাসনের। বুধবার মুঙ্গেরের পুলিশ লাইনে বিশেষ অনষ্ঠানে এসটিএফের কাছে আত্মসমর্পণ করেন সুরেশ। তাঁর মাথার দাম ছিল ৩ লক্ষ টাকা। এদিন তিনি পুলিশের হাতে দু’টি ইনসাস রাইফেল, একটি একে ৪৭, একটি একে ৫৬ রাইফেল ও ৫০৫ রাউন্ড গুলি জমা দিয়েছেন। এগুলি বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বাহিনীর থেকে লুট করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী কোড়া মাওবাদীদের স্পেশাল এরিয়া কমিটি (এসএসি) এবং বিহার-ঝাড়খণ্ড স্পেশাল জোনাল কমিটির (বিজেএসজেডসি) সদস্য ছিলেন। তিনিই বিহারের শেষ সশস্ত্র নেতা বলে পুলিশের দাবি। তাঁর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনীর ১৫ জনেরও বেশি কর্মীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। গত ২৫ বছর ধরে তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। এই সময়ে একের পর নাশকতা চালিয়েছেন তিনি। তাঁর হিটলিস্টের তালিকায় বিএমপি জওয়ান, এসএসবি জওয়ান, চৌকিদার থেকে ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্যও। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে নির্মাণ সংস্থার গাড়িতে আগুন লাগানো এবং ওই সংস্থার কর্মীদের অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বারবার বাগে পেয়েও তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। কোড়ার আত্মসমর্পণে তাই খুশির হাওয়া প্রশাসনে। ডিজি (অপারেশন) কুন্দন কৃষ্ণন বলেন, ‘বিহারকে এখন সম্পূর্ণ মাওবাদী মুক্ত বলা যায়। কারণ কোড়ার আত্মসমর্পণের পর আর বিহারে কোনো সশস্ত্র মাওবাদী নেই।’ এদিকে জোরদার মাওবাদ বিরোধী অভিযান চলছে ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমানার নাম্বি এবং কোরগোটালু পাহাড়ে। মঙ্গলবার থেকে এখানে অভিযান শুরু করেছে সিআরপিএফ। এই অপারেশনের কোড নাম ‘কেজিএইচ-২’। অভিযানে ৫ মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে।