Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লৌহইস্পাত কারখানা নিয়ে জনশুনানিতে ধুন্ধুমার, রঘুনাথপুরে ডাকতে হল পুলিশ

অত্যাধুনিক বেসরকারি ইস্পাত কারখানা নির্মাণে পরিবেশের উপর প্রভাব নিয়ে ছিল জনশুনানি

লৌহইস্পাত কারখানা নিয়ে জনশুনানিতে ধুন্ধুমার, রঘুনাথপুরে ডাকতে হল পুলিশ
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: অত্যাধুনিক বেসরকারি ইস্পাত কারখানা নির্মাণে পরিবেশের উপর প্রভাব নিয়ে ছিল জনশুনানি। সেই শুনানিতে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় রঘুনাথপুরে। রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকের নতুনডি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দূরমট মৌজায় প্রায় চার হাজার কোটি টাকার স্টিল কারখানা গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। মঙ্গলবার সেই কারখানা নিয়েই জনশুনানি ছিল রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সভাগৃহে। স্থানীয় বহু মানুষ জনশুনানিতে শিল্পায়নের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, জমিহারাদের একাংশ বিক্ষোভে শামিল হন। বিক্ষোভ সামাল দিতে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে।

Advertisement

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ এলাকার মানুষকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে কারখানা করতে চাইছে। কারখানা হলে এলাকায় দূষণ হবে, ফলে মানুষ প্রতিবাদ জানাবে। সেটা বুঝতে পেরে চুপিসারে জনশুনানি করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ এলাকার কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে নিজেদের সমর্থনে কথা বলার জন্য এনেছেন। যাঁরা দূষণ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন, তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিনের জনশুনানিতে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসক যোগেশ অশোক রাও পাটিল, রঘুনাথপুর মহকুমা শাসক মিঠুন বিশ্বাস, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভে শামিল জমিদাতাদের মধ্যে শ্রীলোক মাজি, বাসন্তী মান্ডি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের ছাড়াই জনশুনানি করা হয়েছে। এতে পরিষ্কার, কারখানা কর্তৃপক্ষ কিছু আড়াল করতে চাইছেন। আমরা শিল্পের বিরুদ্ধে নয়। আমরা চাই পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে উঠুক। তাই আগামী দিন নিয়ম মেনে সকলের উপস্থিতিতে পুনরায় জনশুনানির আয়োজন করার দাবি জানায়।
প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগমের তরফ থেকে প্রায় ১৪৮ একর জমি দেওয়া হয়েছে। শিল্প স্থাপনের জন্য প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। যেখানে অত্যাধুনিক ইস্পাত কারখানার পাশাপাশি আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১,৬০০ জনের কর্মসংস্থান হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসেই এই শিল্প প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে এদিনের বিক্ষোভ কারখানা কর্তৃপক্ষকে চাপে ফেলে দিয়েছে। 
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, কারখানার জনশুনানিতে নিয়ম নীতি মানা হয়নি। এক মাস আগে থেকে এলাকার মানুষকে জানানোর কথা। কিন্তু কোথাও কোনো কিছু জানানো হয়নি। যেখানে কারখানা হবে, তার চারপাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের যে কোনো মানুষ শুনানিতে শামিল হতে এবং তাঁদের মত পোষণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে তেমনটা করতে দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ বেআইনি বাতিল লাইসেন্স দিয়ে দূষণ রিপোর্ট করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ গা জোয়ারি করে কারখানা করতে চাইলে ছেড়ে কথা হবে না। এলাকার মানুষকে নিয়ে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করা হবে।
কারখানা কর্তৃপক্ষদের তরফ থেকে প্রজেক্ট প্রেসিডেন্ট ভবেশ কুমার মহান্তি বলেন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ হবে। কোনোরকম দূষণ হবে না। সমস্ত সরকারি নিয়ম নীতি মেনে কাজ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ