নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেতাজিনগরে এক আইনজীবী তথা তৃণমূল যুব সভাপতির বাড়ির সামনে দুষ্কৃতীদের জমায়েত সরাতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হল পুলিশকে। নেতাজিনগর থানার সাব ইনসপেক্টর দীনবন্ধু কেশের উপর ছুরি-কাঁচি নিয়ে আক্রমণ করে তাঁকে খুনের চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। বুধবার রাতে এই ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন ওই অফিসার। অভিযোগ, খুনের চেষ্টার মামলায় জামিনে থাকা অভিযুক্তের দলবল পুলিশকে আক্রমণ করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে নেতাজিনগর থানা। সকলের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, মারধর সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নেতাজিনগর এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী দীপায়ন ঘোষের বাড়িতে বুধবার রাত ১২টা নাগাদ জড়ো হয় আট-দশজন দুষ্কৃতী। তাদের হাতে ছিল ছুরি-কাঁচি সহ অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র। বেশকিছুদিন ধরেই ওই আইনজীবীকে হুমকি দিচ্ছিল অভিযুক্তরা। বুধবার ওই আইনজীবীকে আক্রমণ করা ছিল তাদের লক্ষ্য। আইনজীবী দীপায়নবাবু জানিয়েছেন, তিনি ক্লাব থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছেই রাস্তা আটকে দুষ্কৃতীরা বলে যুব সভাপতির পদ ছাড়। না হলে খতম করে দেব। তাঁর দাবি, এলাকায় তোলাবাজি, সাট্টা চালাচ্ছিল অভিযুক্তরা। এর প্রতিবাদ করাতেই তাঁর উপর হামলা হয়েছে। তিনি ১০০ ডায়ালে ফোন করে বিষয়টি জানান। লালবাজারের তরফে খবর পেয়ে আসে নেতাজি নগর থানা। দুষ্কৃতীদের সেখান থেকে সরাতে যান সাব ইনসপেক্টর দীনবন্ধু কেশ। গ্রেফতার করতে গেলে কর্তব্যরত অফিসার ও নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের দুষ্কৃতীরা মারধর করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কুখ্যাত দুষ্কতী রাহুল দে ও জয়ন্ত ঘোষ গোলমালে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। তাদের হাতে ছিল ছুরি ও কাঁচি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ভিড়ের মধ্যে থেকে এই দুজন সাব ইনসপেক্টর দীনবন্ধু কেশের হাতে ছুরি চালায় প্রথমে। এরপর কাঁচি দিয়েও আঘাত করে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলেই জখম ও রক্তাক্ত হন ওই এসআই। আহত অফিসারকে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পিছু ধাওয়া করে সেখানে যায় অভিযুক্তরা। ওই অফিসারকে আবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মারধর করা হয় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় জয়ন্ত, রাহুল সহ ছয় অভিযুক্তকে। সকলের বিরুদ্ধেই খুনের চেষ্টা সহ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে শুরু হয় তদন্ত। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হলে লিগ্যাল এডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, অভিযুক্তরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। ভিড়ের মধ্যে কে হামলা চালিয়েছে স্পষ্ট নয়। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন,সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে গোটা বিষয়টি। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। সওয়াল শেষে সকলকে পুলিশ হেপাজতে পাঠায় আদালত।