সংবাদদাতা, চাঁচল: কালীপুজোর আগে থেকেই মালদহের চাঁচল মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে যায় গোপনে ভাগ্য বদলানোর খেলা। অনেকে লাভবান হলেও সর্বস্বান্ত হওয়ার সংখ্যাই বেশি। জুয়ার আসর বন্ধ করতে তাই সক্রিয় ছিল পুলিশও। গত দু’দিনে চাঁচল মহকুমার থানাগুলিতে গ্রেফতার হয়েছে ১৭৭ জন। চাঁচল থানায় ধৃতের সংখ্যাটা প্রায় ১১০ জন। বোর্ডমানি উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। এছাড়া রতুয়া থানায় ধৃত ১৯ ও বোর্ডমানি ৩৩ হাজার টাকা, সামসি ফাঁড়িতে ৩২ জন ও বোর্ডমানি ৬৫ হাজার ৪৬০ টাকা, হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় ধৃতের সংখ্যা ১৬ জন ও বোর্ডমানি উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোথাও ক্লাব, আবার অনেক জায়গায় মাঠ, বাঁশবাগানে ও পুকুর পাড়ে নির্জন জায়গায় জুয়ার আসর চলছিল। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একের পর আসর বন্ধ করে দেয়। বুধবার গভীর রাতে সামসির কুলিপাড়ার একটি ক্লাব থেকে ৩২ জনকে গ্রেফতার ও বোর্ডমানির পাশাপাশি চারটি বাইক, মদের বোতল বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। চাঁচলের জগন্নাথপুর, ইমামপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দু’দিনে ১১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় আসর থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও বেশিরভাগকে ধরা গিয়েছে। মহকুমা এলাকায় ১৭৭ জন ধৃত জুয়ারির মধ্যে অনেক দিনমজুরও রয়েছেন। জুয়ার আসর যাতে সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়, সেজন্য পুলিশের আরও তত্পরতা ও অভিযানের আবেদন করছেন বাসিন্দারা।
মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য রেহেনা পারভিন বলেন, উৎসব হোক বা অন্য সময়, জুয়ার নেশা ধরে গেলে ছাড়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ড্রাগের থেকেও ভয়ঙ্কর নেশা এটা। অনেকে ঋণ নিয়ে জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হয়ে সংসারে অশান্তি করেন। ভাগ্য বদল হয় পরিশ্রম করে। জুয়া খেলে জীবনে উন্নতি হয় না। জুয়ার আসর বন্ধ করতে পুলিশ যাতে নিয়মিত অভিযান চালায়, সেই দাবি রাখছি।
ডিজিটাল যুগ বলা হলেও কালীপুজোর সময় পুরনো পদ্ধতিতেই খেলা চালায় আয়োজনকারীরা। কোথাও তাসের চার ধরনের চিহ্ন দেওয়া চাদর পেতে বোর্ড বসানো হয়। আবার কিছু জায়গায় লুডোর গুটি দিয়ে ভাগ্য বদলানোর আসর চলে। এছাড়া তাস নিয়ে গোল করে খেলা হয় অনেক জায়গায়। কালীপুজো উপলক্ষ্যে জুয়ার সঙ্গে নেশার আসরও বসে।
চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা বলেন, বিভিন্ন থানা এলাকায় জুয়ার আসর যাতে না বসে, সেজন্য পুলিশের তরফে নিয়মিত অভিযান চলছে।
নিজস্ব চিত্র।