নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তাঁর মুখ বন্ধ করতে কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক কেস দিচ্ছে পুলিশ। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তাঁর মুখ বন্ধ করতে কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক কেস দিচ্ছে পুলিশ। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
সোমবার সংসদ ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও বার্তায় মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি সহ একাধিক ওসি ও আইসি সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে মিথ্যা এনডিপিএস (মাদক মামলা) মামলায় জড়াচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘লোকজনকে বলা হচ্ছে, ম্যাডাম যদি কথা কম বলেন, তাহলে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর ম্যাডাম যদি কথা বলেন, তাহলে তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে আরও মামলা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো এসপি বা ওসিকে চিনি না, চেনারও প্রয়োজন নেই। আমরা সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের গৃহমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে জবাব চাইছি। এসপি থেকে ডিজিপি, আর ডিজিপি থেকে গৃহমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট যায়। তাই আমি যখন অমিত শাহর বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই করছি, তখন কোনো ওসি বা তদন্তকারী অফিসারের কথায় এই লড়াই থামবে না।’ মহুয়া আরও দাবি করেন, তাঁর ‘নিজস্ব লোক’ বলে কেউ নেই। তিনি দলের কর্মীদের পাশে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি এক ব্লক সভাপতির বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সামাজিক ভাবে হেনস্থা করেছে। যদিও সিজার লিস্টে কিছুই পাওয়া যায়নি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভয় পাবেন না। আদালত রয়েছে। আমি দেশ বাঁচানোর লড়াই করছি।’ এই অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অতুল ভি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ প্রায় পাঁচ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পরে করিমপুরের প্রতীক বিশ্বাস সহ আরও দু›জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতীককে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ করিমপুরে গিয়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা মহুয়া মৈত্র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সৌমেন বিশ্বাস ও কার্তিক মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এরপর থেকেই জেলাজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। করিমপুর এলাকায় অতীতেও একাধিক এনডিপিএস মামলা ঘিরে বিতর্ক হয়েছে। স্থানীয় মহলের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে করিমপুরের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক এনডিপিএস মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিকে, কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার পাল্টা বলেন, ‘তৃণমূল এতদিন ভয়ের রাজনীতি করেছে বলেই পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। এখন পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে মহুয়া মৈত্র ঘনিষ্ঠদের যোগ রয়েছে। তৃণমূল আমলে এই চক্র রমরমিয়ে চলেছে এবং দলের একাংশ তার সুবিধাভোগী ছিল।’