Bartaman Logo
৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টি-ধস: লাল সতর্কতা জারি, সান্দাকফুগামী রোড বিপজ্জনক, সমতলে ভাঙছে নদীর পাড়

ধসে বিপজ্জনক সান্দকফুগামী রাস্তা। সোমবার ভোরে ওই রাস্তার একাংশ ধসে গিয়েছে। এরজেরে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের যানবাহন বিপজ্জনকভাবে চলাচল করছে।

বৃষ্টি-ধস: লাল সতর্কতা জারি, সান্দাকফুগামী রোড বিপজ্জনক, সমতলে ভাঙছে নদীর পাড়
  • ৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ধসে বিপজ্জনক সান্দকফুগামী রাস্তা। সোমবার ভোরে ওই রাস্তার একাংশ ধসে গিয়েছে। এরজেরে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের যানবাহন বিপজ্জনকভাবে চলাচল করছে। অন্যদিকে, এক রাতে উত্তরবঙ্গের ন’টি জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরজেরে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির একাধিক এলাকা ভাসছে। আর শিলিগুড়ি মহকুমায় চামটা, পঞ্চনই ও রক্তি নদী পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তারা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে লাল সতর্কতা জারি করেছে। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পাহাড়-সমতলের বাসিন্দারা। 

Advertisement

প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলায় ইন্ট্রিগ্রেটেড ডিস্ট্রিক্ট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (আইডিইওসি) চালু রয়েছে। পাহাড়ের ধসপ্রবণ এলাকা, সমতলে নদীর অবস্থা ও আবহাওয়ার গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউআরটি সতর্ক রয়েছে। 
রাজ্যের সর্বোচ্চ ভিউ পয়েন্টের নাম সান্দাকফু। সমতল থেকে যার উচ্চতা ১১ হাজার ৯৩০ ফুট। কাঞ্চনজঙ্ঘা ও মাউন্ট এভারেস্ট শৃঙ্গ দেখার টানে সান্দকফুতে ভিড় জমান পর্যটকরা। এদিন ভোরে দার্জিলিং সদর থেকে সান্দাকফুগামী রাস্তার একাংশ ধসে গিয়েছে। রাস্তাটির একদিকে খাদ, আরএকদিকে পাহাড়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার ওই বিপজ্জনক অংশ দিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের যানবাহন কোনোরকমে যাতায়াত করছে। এরবাইরে রবিবার রাতে মানেভঞ্জনগামী রাস্তায় নেমেছে ধস। এছাড়া, পাহাড়ের একাধিক ঝোরা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির দাপট বাড়লে ঝোরাগুলি বিধ্বংসীরূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা। 
প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির জেরে ওই দু’টি এলাকায় ধস নেমেছে। সান্দাকফুর রাস্তা মেরামতি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঝোরাগুলির উপর নজর রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। 
গত ২৪ ঘণ্টায় কালিম্পংয়ের গোরুবাথানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬৮.৩০ মিমি। এরজেরে এদিন সকালে নিমবস্তির পিএমজিএসওয়াই রাস্তার উপর নেমেছে ধস। প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে রাস্তটি অবরুদ্ধ। সেখান থেকে ধস সরানোর কাজ চলছে। পশ্চিম সিকিমের লেকসিপ ও গেজিংয়ের মাঝে একটি রাস্তা ধসে গিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে আছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সমতলের একাধিক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য আলিপুরদুয়ার। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১৫.২০ মিমি। এরবাইরে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙায় ১৫৫, শীতলকুচিতে ১৩০, শিলিগুড়িতে ৭১.২০, জলপাইগুড়ির মালবাজারে ৬৯.৬০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এরজেরে আলিপুরদুয়ার শহরে দশটি ওয়ার্ডের একাধিক জায়গা জলমগ্ন। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও এক কোমর জল। জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তির বাসুসুবা, চাপাডাঙাও জলমগ্ন। এদিকে, কোচবিহার শহরে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। এদিন দিনভর শহরে ভারী বৃষ্টি হয়। এরজেরে রাজবাড়ির সামনে কেশব রোড, মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ রোড, লিচুবাগান প্রভৃতি এলাকায় জল থইথই অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেহাল নিকাশির জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মাটিগাড়ায় চামটা, পঞ্চনই ও রক্তি নদী পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। • বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ভরসা কচুপাতা। কোচবিহারে চন্দন দাসের তোলা ছবি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ