সংবাদদাতা, মানকর: সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাসের জন্মভিটে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ধ্বংসের মুখে। মঙ্গলবার কবির জন্মদিনে গলসি-১ ব্লকের লোয়াপুর কৃষ্ণরামপুর পঞ্চায়েতের বেতালবন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ভাঙা বাড়িতে অসামাজিক কাজ চলছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যদিও গলসি-১ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কবির পরিবার বা এলাকার বাসিন্দাদের তরফে এই বিষয়ে কোনো আবেদন আসেনি।
সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস ১৯০০ সালের ২৫ আগস্ট তাঁর মামারবাড়ি বেতালবনে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও সাহিত্যিকের জন্ম সাল নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকে বলেন ১৯০০ নয় ১৮৯৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্মদিন। সজনীকান্তর বাড়ি ছিল বীরভূমের রায়পুর গ্রামে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। বাবা হরেন্দ্রলাল দাস কালেক্টর ছিলেন। ফলে কর্মসূত্রে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়েছে। সজনীকান্তও তাই উত্তরবঙ্গ, পাবনা কখনও দিনাজপুরে পড়াশোনা করেছেন। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ভরতি হয়ে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনার জন্য তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভরতি হন। কথিত আছে, কলেজ সংলগ্ন হস্টেলগুলিতে আমিষ খাবার নিষিদ্ধ ছিল। এনিয়ে তিনি প্রতিবাদ করলে অন্য ছাত্ররা তাঁর সঙ্গে যোগ দেয় এবং বিষয়টি আন্দোলনের আকার নেয়। বিভিন্ন কারণে তিনি বেনারস ছেড়ে ফিরে আসেন কলকাতায়। পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাশাপাশি শুরু করেন সাহিত্যচর্চা। যুক্ত হন ‘শনিবারের চিঠি’র সঙ্গে। পরবর্তীকালে এই পত্রিকার সম্পাদকও হন।
বাংলার শিক্ষক দিলীপ কোনার বলেন, কবি সজনীকান্ত রবীন্দ্রনাথের অত্যন্ত স্নেহধন্য ছিলেন। তাঁর আত্মজীবনী ‘আত্মস্মৃতি’ গ্রন্থে বেতালবনের নাম উল্লেখ আছে। শনিবারের চিঠি ছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকা সম্পাদনা করেছেন সজনীকান্ত।
গবেষক সৌরভ কেশ বলেন, কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগেই বুদবুদের তিলডাঙা মোড় থেকে কসবা সড়কের নাম দেওয়া হয়েছে সজনীকান্ত সরণি। কিন্তু মনীষীর জন্মস্থান রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ ধ্বংসের পথে। অবিলম্বে বাড়িটি সংরক্ষণ করা উচিত এবং ওঁর লেখা নিয়ে বেতালবনে সংরক্ষণশালা হলে ভাল হয়।
এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, বাড়িটির সংস্কার হলে ভাল হয়। বর্তমানে ঘুঁটে দেওয়ার কাজ হচ্ছে। গোরু চড়ছে। গলসি-১ এর বিডিও ইন্দ্রজিৎ মারিক বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
কবি সজনীকান্ত দাসের ভগ্ন জন্মভিটে চত্বরে গোরু চড়ছে।-নিজস্ব চিত্র