Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঞ্জিপাড়া কাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও ১

পাঞ্জিপাড়া কাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও ১
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, ইসলামপুর: গোয়ালপোখরের  কিচকটোলায় পুলিসের সঙ্গে এনকাউন্টারে মৃত সাজ্জাক আলমকে জেল থেকে বের করে আনার জন্য এক লক্ষ টাকা খরচ করেছিল বিহারের কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও মাদক কারবারি হাবিবুর রহমান ওরফে নানা। এই টাকা সে দিয়েছিল পুলিসের হেফাজতে থাকা সাজ্জাকের বাংলাদেশি সঙ্গী আব্দুল হোসেন ওরফে আবালকে। আব্দুলকে জেরা করে এই তথ্য উঠে আসার পরই  হাবিবুরকে বৃহস্পতিবার সকালে ডালখোলার পাতনোর এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। অভিযুক্তকে এদিনই ইসলামপুর আদালতে তোলা হলে, তাকে ১৪ দিনের পুলিসি হেফাজতে পাঠান বিচারক।
Advertisement
আব্দুলকে জেরা করে পুলিস জানতে পারে বিহারের কুখ্যাত মাফিয়া হাবিবুর আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের কারবার করে। বিহার থেকে নাইন এমএমসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন দুষ্কৃতীদের সরবরাহ করে। তখনই থেকেই তার সঙ্গী ছিল সাজ্জাক আলম।  হাবিবুর কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এলাকায় গাঁজা চাষ করাচ্ছে। একইসঙ্গে উত্তর পূর্ব ভারত থেকে হেরোইন, ব্রাউন সুগার, ইয়াবা নিয়ে এসে বিভিন্ন রাজ্যে সরবরাহ করত। বেআইনি মাদক পাচারে বাধা দেওয়ায় সে ও সাজ্জাক মিলে একাধিক ব্যক্তিকে খুন করেছে বলে অভিযোগ। 
তদন্তে জানা গিয়েছে,২০২২’এ হাবিবুর মাদক ও বেআইনি অস্ত্র পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হয় ডালখোলা থেকে। জেলে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় সাজ্জাকের। পরে আব্দুল অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে এলে হাবিবুরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। পুলিস জেনেছে, সংশোধনাগারে বসেই হাবিবুর পরিকল্পনা করে সাজ্জাককে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে জেল থেকে। পুলিসকে গুলি করেই অভিযুক্ত পালাবে।  মাস ছয়েক আগে জামিন পেয়ে বাইরে আসে হাবিবুর। কয়েকমাস পর জেলমুক্তি হয় আব্দুলের। কুখ্যাত মাফিয়া নানা ডেকে নেয় আব্দুল ওরফে আবালকে। সেখানে ঠিক হয়, আদালতেই সাজ্জাককে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হবে। একইসঙ্গে সাজ্জাক পালানোর পর তাকে নিয়ে যাওয়া হবে বাইকে চাপিয়ে। আগ্নেয়াস্ত্র ও বাইক কিনতে নানা ধাপে ধাপে একলক্ষ টাকা আব্দুলের ই-ওয়ালেটে ট্রান্সফার করে। তিরিশ হাজার টাকা দিয়ে ৭.৬২ বোরের পিস্তল কেনে আব্দুল। এরপর এক পরিচিতকে ধরে তিনটি পুরনো মোটরবাইক কিনেছিল। এই বাইকগুলি ব্যবহার হয়েছিল সাজ্জাকে নিয়ে আসার সময়। তদন্তে জানা গিয়েছে, সাজ্জাক পুলিসকে গুলি করে পালানোর নানার ডেরাতে গিয়ে দেখা করেছিল। কিন্তু  পুলিসি অভিযান জোরদার হওয়ায় সাজ্জাক বাংলাদেশ সীমান্তে পালায়। আব্দুলই তদন্তকারীদের জানায়, ডালখোলা এলাকায় ডেরা পাল্টে পাল্টে থাকছে হাবিবুর। সে যখন পালিয়ে ছিল তাকেও আশ্রয় দিয়েছিল নানা। মোবাইলের সূত্র ধরে জানা যায়, হাবিবুর ডালখোলার পাতনোর এলাকায় রয়েছে। সেইমতো সেখানে হানা দিয়ে তাকে ধরা হয়। সাজ্জাককে ছাড়ানোর জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে, তা মাদক কারবার থেকে উপার্জিত বলে পুলিসকে জানিয়েছে নানা।  নিজস্ব চিত্র।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ