নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএফের আওতায় ন্যূনতম পেনশনের অঙ্ক বাড়াচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তা বৃদ্ধির জন্য প্রতিশ্রুতির অন্ত নেই। লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগীর থেকে কেন্দ্রের মুখ ফিরিয়ে থাকার প্রতিবাদে দিল্লিতে তো বটেই, আঞ্চলিক স্তরেও বহুবার অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন প্রবীণ নাগরিকরা। কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি। ফের রাজ্যের সব সাংসদকে এই বিষয়ে দিল্লিতে সরব হওয়ার আর্জি জানালেন তাঁরা। এমনকী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও দ্বারস্থ হচ্ছেন প্রবীণ নাগরিকরা। ইতিমধ্যেই একাধিক সাংসদের কাছে লিখিতভাবে দাবিদাওয়া তুলে ধরেছেন তাঁরা।
Advertisement
ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য বছরের পর বছর ধরে লড়াই চালাচ্ছে ইপিএস-৯৫ স্কিমের আওতাভুক্ত পেনশনভোগীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটি। মহারাষ্ট্রের বুলদানায় ছ’বছর ধরে চলছে রিলে অনশন। কমিটির রাজ্য সম্পাদক তপন দত্ত বলেন, আমাদের ধারণা, এদেশে এত দীর্ঘ অনশন এর আগে হয়নি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের দাবিদাওয়া মানতে নারাজ। যতবারই আমরা দিল্লিতে সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিই, কেন্দ্রীয় সরকার নানা অজুহাত বা প্রতিশ্রুতিতে তা ভেস্তে দেয়। ফলে কোনও সুরাহা না-পেয়ে আমরা ফের সাংসদদের দ্বারস্থ হয়েছি। ইতিমধ্যেই সংগঠনের সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার সাংসদদের হাতে আমাদের দাবিদাওয়া সংক্রান্ত স্মারকলিপি তুলে দিয়েছেন ও দিচ্ছেন। বিষয়গুলি সম্পর্কে রাজ্যের মন্ত্রী ও বিধায়কদেরও যতটা সম্ভব অবহিত করতে চাই আমরা। কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে, তারা পিএফের আওতায় ন্যূনতম এক হাজার টাকা পেনশন দেয়। কিন্তু তা যে একেবারেই অসত্য দাবি, স্বীকার করছে খোদ পিএফ দপ্তরই। এদিকে তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদে বসে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, তাঁরা আগামী পাঁচবছরে সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মীদের সুরাহার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবেন। পেনশনভোগীরা বলছেন, তাই যদি হয়, তাহলে সবার আগে দরকার পেনশন বৃদ্ধি করা। সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে। কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে যাতে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায়, তারই চেষ্টা করছেন প্রবীণ নাগরিকরা।



