Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পানিহাটির জঞ্জাল: সুরাহায় নয়া প্রকল্প, কাজ শুরু শীঘ্রই, ক্ষুব্ধ মানুষকে বোঝাতেও উদ্যোগ   

পানিহাটির জঞ্জাল: সুরাহায় নয়া প্রকল্প, কাজ শুরু শীঘ্রই, ক্ষুব্ধ মানুষকে বোঝাতেও উদ্যোগ 
 
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: জঞ্জাল সমস্যার সমাধানে চলতি মাসেই শুরু হবে পানিহাটি পুরসভার নতুন সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ। আগামী ছ’মাসের মধ্যে নতুন প্রকল্পের কাজ শেষ করে নিজস্ব জায়গায় আবর্জনা ফেলতে হবে পুরসভাকে। বৃহস্পতিবার নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের জন্য জায়গা চিহ্নিত হয়েছে বিলকান্দা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সাধারণ মানুষকে বোঝানোর জন্য আগামী শনিবার সেখানে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক হবে। 
Advertisement
পানিহাটিতে জঞ্জাল সমস্যা এখন মারাত্মক। সমস্যার শুরু এবছরের গোড়ায়। তবু স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বরং সঙ্কট বেড়েছে দুর্গাপুজোর সময় থেকে। ধাপায় জঞ্জাল নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। শহরের সর্বত্র জমছে জঞ্জালের স্তূপ। আবর্জনা ও তীব্র দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে সবার। এই আবহে বৃহস্পতিবার নগরোন্নয়ন দপ্তরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করা হয়। বৈঠকে বিভাগীয় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ছাড়া ছিলেন সাংসদ সৌগত রায়, বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায়, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং নগোরন্নয়ন দপ্তর ও পুরসভার অফিসাররা। ভার্চুয়ালি ছিলেন জেলাশাসক শরদ দ্বিবেদী ও মহকুমাশাসক। তবে বৈঠকে খড়দহের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি সংশ্লিষ্ট মহলের নজর কেড়েছে। 
প্রসঙ্গত, পানিহাটি পুরসভার মহিষপোতায় ওই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি গড়ে তোলার কথা। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া ওই জায়গা বিলকান্দা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। তবে কিছু স্থানীয় মানুষ এই প্রকল্পের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন। জায়গাটি খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়ে পানিহাটি পুরসভাকে একাধিকবার চিঠিও দিয়েছিলেন শোভনদেববাবু। তাই এদিনের বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।  তবে এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমাসেই মহিষপোতার ওই জমিতে সীমানা বরাবর পাঁচিল তুলে ঘিরে ফেলা হবে এবং শুরু হবে শেড নির্মাণের কাজ। ওই জমিতে গ্রিন ওয়েস্ট অর্থাৎ পচনশীল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ হবে। এছাড়া রামচন্দ্রপুরে তৈরি হবে প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের ইউনিট। শহর থেকে আবর্জনা পৃথকভাবে সংগ্রহের পর তা ওই দুই জায়গায় পাঠানো হবে। মহিষপোতায় ওই প্রকল্প শুরু করার আগে এলাকাবাসীকে বোঝনোর কাজ করা হবে। তাই আগামী শনিবার দুপুরে সাংসদের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত এলাকায় একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই পরিকল্পনা ছ’মাসের মধ্যে রূপায়ণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। এইসময়ের মধ্যে শহরের জঞ্জাল সমস্যা সমাধানের জন্যও পৃথক আলোচনা হয়। তাতে বলা হয়েছে, আবর্জনা আগের মতোই নিয়ে যাওয়া হবে ধাপায়। কিন্তু ধাপায় আবর্জনা ফেলার জায়গা এখন বাড়ন্ত। তাই সেই সমস্যা বাড়লে আবর্জনা আপাতত নিয়ে যাওয়া হবে প্রমোদনগরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। পুর চেয়ারম্যান বলেন, মহিষপোতায় আধুনিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারেই আগামী শনিবার পঞ্চায়েত স্তরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ