Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদেশিদের পণবন্দির ছক, পাক জঙ্গি গ্রেপ্তার হাবড়ায়

বাংলাদেশ পালানোর পথে পাক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) এক এজেন্টকে মঙ্গলবার রাতে হাবড়া থেকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ।

বিদেশিদের পণবন্দির ছক, পাক জঙ্গি গ্রেপ্তার হাবড়ায়
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশ পালানোর পথে পাক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) এক এজেন্টকে মঙ্গলবার রাতে হাবড়া থেকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। আইএসআইয়ের এই ‘ডিপ অ্যাসেট’ পাক সেনার প্রাক্তন কর্মী। পাকিস্তানের ফয়জলাবাদের হাফিজাবাদের বাসিন্দা এই এজেন্টের নাম রানা রউফ খালিদ। যশোরের বেনাপোলে পাভেল নামে এক বাংলাদেশি সহযোগী তার অপেক্ষায় ছিল বলেও জেনেছেন গোয়েন্দারা। গত ২০১২ সালে নেপাল থেকে বিহারের রক্সৌল হয়ে কলকাতার তপসিয়ায় এসে ওঠে রউফ খালিদ। এরপর জাল নথিপত্র দিয়ে ভারতীয় নাগরিক ‘সেজে’ নির্বিঘ্নে গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছিল সে। নাম নিয়েছিল ওয়াহাব আলম। এমনকি ভারতীয় নাগরিক সেজে সে বাংলায় ভোটও দিয়েছিল। পাক সেনার এই প্রাক্তন কর্মীকে এদেশে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতীয় নথিপত্র বানাতে সাহায্য করেছিল তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ। তাকেও গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। বুধবার বারাসত আদালতে ধৃতদের হাজির করা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের এসটিএফ হেপাজতে পাঠিয়েছেন। 

Advertisement

গোয়েন্দারা বলছেন, পাক সেনার প্রাক্তন জওয়ান রউফ খালিদকে ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দিয়ে এদেশে পাঠিয়েছিল আইএসআইয়ের স্পেশাল ডেস্ক। বিএসএফ ও ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর ফোর্ট উইলিয়াম, নৌঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, রেল স্টেশন, এলিট ট্রেনগুলির রুট সহ আরও কিছু স্পর্শকাতর অংশের ছবি ও তথ্য পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল রউফ খালিদ। এরপর বিদেশি নাগরিকদের পণবন্দি এবং রেলে নাশকতার ছক রূপায়ণের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল তাকে। তপসিয়ার সেকেন্ড লেনের বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ কলকাতায় আইএসআইয়ের লজিস্টিক সেলের দায়িত্বে রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। নেপাল হয়ে যে সমস্ত এজেন্টকে এপারে পাঠাচ্ছে আইএসআই। তাদের জন্য ভারতীয় পরিচয়পত্র, আধার ও ভোটার কার্ড বানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ইজাজের। ঘনঘন নেপাল যেত তপসিয়ার এই ব্যক্তি। আইএসআই কর্তারা কাঠমান্ডুতেই ইজাজের সঙ্গে রউফ খালিদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।  তদন্তকারীরা বলছেন, গ্রেপ্তারের সময় রউফ নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করে। বলে, তার নাম ওয়াহাব আলম। বাড়ি তপসিয়ায়। দাবির পক্ষে আধার ও ভোটার কার্ডের ফটোকপি এসটিএফ কর্তাদের দেখায়। যাচাই করে দেখা যায়, এসআইআর পর্বে ওই ভোটার কার্ডটি বাতিল হয়েছে। রউফের কাছে থাকা এক নোটবুক থেকে তার পাকিস্তানি পাসপোর্টের নম্বর মিলতেই গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হয় গোয়েন্দাদের কাছে। পাকিস্তানি নাগরিক রউফের যাবতীয় পরিচয়-ঠিকানা মিলে যায়। পাওয়া যায় বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিভিন্ন মোবাইল নম্বর। তদন্তকারীরা বলছেন, বাংলাদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করা মাত্রই নিজের মোবাইল ফোনটি ‘নষ্ট’ করে দেয় রউফ। তবে সেই ফোনের সিম কার্ড নম্বরের সূত্র ধরেই রউফের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সহ অন্যান্য মেসেজ ডিকোড করার ব্যাপারে আশাবাদী গোয়েন্দারা। রউফের নোটবুক থেকে কাসিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহেল, জেবি এবং হারুণ সর্দার—এমন যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গিয়েছে, তারা আইএসআই ‘হ্যান্ডলার’ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ