মুম্বই: সত্যিকারের স্পেশাল! বৈভব সূর্যবংশীকে এভাবেই চিহ্নিত করলেন শচীন তেন্ডুলকর। ১৫ বছর বয়সি ব্যাটারের সহজাত প্রবণতাকে যেন লাগাম পরানো না হয়, কোচ ও মেন্টরদের কাছে সেই আবেদনও জানান তিনি। মাস্টার ব্লাস্টারের মতে, ‘আমি ওর ব্যাটিং দেখেছি। অসাধারণ প্রতিভা। সত্যিকারের স্পেশাল। বৈভব শুধু যে জোরে বল মারতে পারে তা নয়, কবজির মোচড়ে রান করার ক্ষমতাও মুগ্ধ করেছে। মাঠের সবদিকে সমান দক্ষতায় শট নিতে দক্ষ। তবে ও কিন্তু স্লগ করছে না। বরং বাকিদের থেকে দ্রুত লাইন-লেংথ ধরে ফেলছে। আর সে কারণেই অনায়াসে সীমানার ওপারে পাঠাচ্ছে বল।’
বিহারের সমস্তিপুর থেকে উঠে আসা বৈভব এবারের আইপিএলে চোখধাঁধানো ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে করেছে ৭৭৬ রান। স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় দলে তাকে খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে চলছে আলোচনা। ভবিষ্যতে বিস্ময় কিশোর যে দেশের হয়ে টেস্ট খেলবে, তাতে নিশ্চিত শচীনও। তবে প্রত্যাশার চাপ ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চান না একেবারেই। মুম্বইকরের কথায়, ‘আমি বলব, ও যেন নিজের মেজাজেই খেলে। টেস্ট ক্রিকেট খেললে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ও পরিণত হবে। জানবে, নানারকম চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কীভাবে করতে হবে। তার জন্য সমাধানের পথ খোঁজার ইচ্ছা থাকা জরুরি। কারণ, সমস্যা কেরিয়ারের শেষ বল পর্যন্ত থাকবে। বোলাররা প্রত্যেক বলেই চাইবে আউট করতে। ওকে দেখে আমার খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। কী করতে চাইছে সে সম্পর্কে প্রবলভাবে নিশ্চিত। ওর এই সহজাত প্রবণতাকে যেন বদলানো না হয় কোনোমতেই।’
রাজস্থান রয়্যালসের বাঁ-হাতি ওপেনারকে শচীনের পরামর্শ, ‘বল অনুযায়ী নিমেষে ও যে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেই সিগন্যাল যেন বাধা না পায়। নানা কথা বলে সেটাকে গুলিয়ে দেওয়া অন্যায় হবে। বৈভবের সামনে এটাই কিন্তু চ্যালেঞ্জ। আমি চাইব, ও যেন এভাবেই ব্যাট করে। আমরা সবাই ওকে টেস্ট ক্রিকেটে দেখতে চাই। কিন্তু তা কখন হবে সেটা অজানা। তবে এমন আকর্ষণীয় প্রতিভাকে উৎসাহ দেওয়া দরকার।’
পাশাপাশি আইপিএলকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে তেন্ডুলকরের। ইমপ্যাক্ট সাব নিয়ম একেবারেই পছন্দ নয় তাঁর। এতে ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্য কমছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দলের একজন বোলারকে চারের বদলে পাঁচ ওভার হাত ঘোরানোর সুযোগ দেওয়ার নিয়ম চালুর সওয়াল করেন তিনি। ‘পাওয়ার প্লে’র নিয়মেও বদল আনার পক্ষপাতী শচীন।