অমিত চৌধুরী তারকেশ্বর
অমিত চৌধুরী তারকেশ্বর
জগন্নাথ মন্দির থেকে হাওড়া স্টেশন। বিমান দুর্ঘটনা থেকে ইসকন। নানা থিমে সাজছে জাঙ্গিপাড়ার বারোয়ারি পুজোগুলি। জাঙ্গিপাড়া ব্লকে অনুমোদিত দুর্গাপুজো হয় ১৮০টি। বাড়ির পুজো হয় ২৮টি। আর মহিলা পুজোর সংখ্যা এ বছর একটি বেড়েছে। হয়েছে চারটি।
মহালয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন সিংটি দেশবন্ধু যুবক সমিতির পুজো। এই পুজো এবার ৫৫ বছরে পা দিয়েছে। থিম, পুরীর জগন্নাথ মন্দির। এই মন্দির তৈরি হয়েছিল ১১৬১ খ্রিস্টাব্দে। বেলেপাথরে তৈরি। জাঙ্গিপাড়া থানা এলাকার সিংটিতে এলে দেখা যাবে বেলেপাথরের রং-এর মণ্ডপ। শোলার কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মন্দিরের ভাস্কর্য।
এছাড়াও এখানকার উল্লেখযোগ্য পুজোগুলির মধ্যে সুকান্ত স্মৃতি সংঘ অন্যতম। এই পুজো ২৮তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এছাড়া মোহনবাটী নেতাজি যুবক সংঘের পুজো ২৫তম বর্ষে পা দিয়েছে। তারা করছে হাওড়া স্টেশন থিম। জাঙ্গিপাড়া রিলায়েন্স ক্লাব এ বছর ২৭তম বছরে পা দিয়েছে। পুরনো রাজবাড়ির আদলে তৈরি হয়েছে এদের মণ্ডপ। চাকপুর জাগ্রিহী সংঘ ৬৮তম বর্ষে পা দিয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছে তারা। চলতি বছরের সবথেকে বড় মর্মান্তিক ঘটনাটি দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। পশপুর যুবগোষ্ঠীর পুজোর এবার ৪৫ তম বর্ষ। ইসকনের মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে তাদের মণ্ডপ।
এর পাশাপাশি মহিলা পরিচালিত চারটি পুজোর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমিয়ে দুর্গাপুজো করছে তারা। প্রসাদপুর ভগবতী যুবক সংঘের পুজো ৫১ বছরে পা দিয়েছে। একটি মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। এছাড়া আছে ঐতিহ্যবাহী আঁটপুর মিশনের পুজো, প্রেমানন্দ মহারাজের কাকার বাড়ির পুজো, দাসবাড়ির পুজো, মিত্রবাড়ির পুজো। জাঙ্গিপাড়া ব্লকের আঁটপুরের বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। বহু ঐতিহাসিক ঘটনা লুকিয়ে এই পুজোগুলির মধ্যে। রাজবলহাটে দুর্গাপুজোতে রাজবল্লভী দেবীর পুজো হয়। নবমীতে এখানে মোষ বলি দেখতে ভিড় করে আসে বহু মানুষ। জাঙ্গিপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তমালশোভন চন্দ্র জানান, জাঙ্গিপাড়া ব্লকে বহু ঐতিহ্যবাহী বাড়ির পুজো রয়েছে। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তা দেখতে আসে মানুষ। সিংটি ছাড়াও কয়েকটি দুর্গাপুজো চোখে পড়ার মতো হয়। অন্যান্য পুজোগুলির আড়ম্বর না থাকলেও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবী আরাধনা করেন উদ্যোক্তারা। এ বছর ১৮০টি পুজোকে সরকারি অনুদান তুলে দেওয়া হচ্ছে। সিংটির আশপাশের রাস্তা সংকীর্ণ। পুজোর সময় এই এলাকার ভিড় সামাল দেওয়া এখন প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ। পুলিশ এলাকা পরিদর্শন করেছে।