ব্রাসিলিয়া: ব্রাজিলের আখ খেতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে উদ্ধার ১৮০ কেজি কোকেন। স্পেসএক্সের নকল লোগো ছাপা কাগজের মোড়কে এই মাদক নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর করুরিপের এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পাইলট টিমোথি জেমস ক্লার্কের। তাহলে কি অস্ট্রেলিয়ার ওই পাইলট আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? হঠাৎ এলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থার লোগো ব্যবহার করা হল কেন? বর্তমানে সেটাই জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন ব্রাজিলের ফেডেরাল পুলিশ ও মাতো গ্রোসো পুলিশ। তদন্তে যোগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডেরাল পুলিশ। বিমানটির গন্তব্য নিয়ে এখনও কিছু জানাননি তদন্তকারীরা। তবে ভিতরে অতিরিক্ত জ্বালানির ট্যাঙ্ক থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সূত্রের খবর, বিমানটি জাম্বিয়ায় নথিভুক্ত। মালিক ব্রাজিলের বাসিন্দা। দু’বছর ধরে সেখানেই ছিল বিমানটি। রহস্যের জট কাটাতে মালিকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
একসময় অস্ট্রেলিয়ার কান্টাস এয়ারলাইন্সের হয়ে চাকরি করতেন ক্লার্ক। ২০ বছর ধরে বিমান চালাতেন। দুর্ঘটনার দিন ব্রাজিলের একটি গ্রামীণ এয়ারস্ট্রিপ থেকে যাত্রা শুরু করেন ক্লার্ক। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যে ভেঙে পড়ে বিমান। দুর্ঘটনাস্থলে ১৮০ কেজি কোকেন পেস্ট উদ্ধার করে পুলিস। তদন্তকারীদের অনুমান, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপে ওই মাদক পাচার করার পরিকল্পনা ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে এই ধরনের কোকেনের মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। তবে নিহত পাইলটের লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্ট দেখামাত্র তদন্তকারীদের চিন্তা আরও বেড়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া ও স্পেসএক্সের হয়ে কাজ করেছেন নিহত পাইলট। অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্পোরেট বিমান চালিয়েছেন। এদিকে ক্লার্কের পরিচিতদের দাবি, তিনি কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাহলে কীভাবে এই মাদক পাচার চক্রের সদস্য হলেন তিনি? বর্তমানে সেটাই জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশ ও তদন্তকারী দলের সদস্যরা।