সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ভেঙে পড়া বাসযাত্রী প্রতীক্ষালয়গুলি ঢেলে সাজানোর কথা ভাবছে নদীয়া জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। অন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে বাসযাত্রীদের প্রতীক্ষালয়গুলির ক্ষেত্রেও দেওয়া হবে বিশেষ নজর। মানুষ যাতে প্রতীক্ষালয়গুলিতে বসে বাসের অপেক্ষা করতে পারেন শুধুমাত্র সেই কারণেই এগুলির সংস্কারের ভাবনাচিন্তা রয়েছে। শনিবার এমনই বলেন বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী।
বাস্তবে নদীয়া জেলার অধিকাংশ যাত্রী প্রতীক্ষালয় জরাজীর্ণ ও আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। কোথাও ভেঙেছে বসার আসন তো কোনোটি আবার সাইকেল গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে নবদ্বীপ-গৌরাঙ্গ সেতু থেকে মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের ভালুকা বটতলা পর্যন্ত রাজ্য সড়কের ধারে থাকা যাত্রী প্রতীক্ষালয়গুলি ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছেন না মানুষজন। প্রখর রোদ কিংবা বৃষ্টি সব সময়ই খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হয় স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীরা।
নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ সেতু থেকে কৃষ্ণনগরমুখী রাজ্য সড়কের ধারে মোট পাঁচটি যাত্রী প্রতীক্ষালয় রয়েছে। ফরেস্টডাঙার প্রতীক্ষালয়টির আংশিক সংস্কার হলেও মিয়াপাড়া, মুকুন্দপুর, গৌরনগর মোড় ও ভালুকা বটতলার প্রতীক্ষালয়গুলি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে। এর জেরে মাজদিয়া- পানশিলা, ভালুকা, চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর ও স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা সমস্যায় পড়ছেন। এই রাজ্য সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের অসংখ্য বাস চলাচল করে।
নতুন ঘোলাপাড়ার বাসিন্দা সুমন্ত ঘোষ বলেন, গৌরনগরের যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতীক্ষালয়টির সংস্কার হয়নি। বর্তমানে এটি কার্যত সাইকেল ও বাইকের গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। রাতের বেলায় সেখানে মদ্যপানের আড্ডাও বসে। গৌরনগরের বাসিন্দা বৃদ্ধা ভগবতী ঘোষের কথায়, প্রতীক্ষালয়ের বেহাল অবস্থার পাশাপাশি সেখানে শৌচালয় নেই। মহিলা যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়। যাত্রী- সুবিধার জন্য এখানে শৌচালয় নির্মাণ হোক।
এনিয়ে বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে নতুন জেলা পরিষদ বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা পরিষদ গঠনের পর পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা হবে। নবদ্বীপের পাঁচটি বাসযাত্রী প্রতীক্ষালয় পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নির্মাণ হলেও বর্তমানে সেগুলি আর ব্যবহারযোগ্য নয়। এগুলিকেও সংস্কারের আওতায় আনা হবে। নবদ্বীপের একটি জরাজীর্ণ যাত্রী প্রতীক্ষালয়। -নিজস্ব চিত্র