দেরাদুন: পরিবেশকর্মী, স্থানীয়দের তুমুল বিক্ষোভের জেরে ঘুম ভাঙল উত্তরাখণ্ড সরকারের। ভানিয়াওয়ালা-ঋষিকেশ সংযোগকারী রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ৪ হাজারের বেশি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আপাতত সেই কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। মুখ্যসচিব ও অন্যান্য আধিকারিকদের তাঁর নির্দেশ, সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তাদের পরামর্শমতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরই ফের গাছ কাটা শুরু করা যাবে।
বিতর্কের মাঝে রাস্তা সম্প্রসারণের দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা এনএইচএআই জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে গাছও বসানো হবে। আগামী ১০ বছর তা দেখভাল করবে সংস্থা। পাশাপাশি, গাছ বসানোর জন্য বনদপ্তরকে ৪০ হেক্টর জমি দিয়েছে রাজ্য। যদিও তাতে বিতর্ক থামেনি। স্থানীয়দের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিবালিক এলিফ্যান্ট রিজার্ভ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ গাছ কাটা হলে পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু হতেই স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করে। তাতে শামিল হয় শিশুরাও। মানববন্ধন করে গাছ আগলে রেখেছিলেন তারা। সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে গত ১২ জুলাই একটি এফআইআরও দায়ের হয়। তাতে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বেড়ে যায়। চাপে পড়ে আপাতত ওই প্রকল্প স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি। শনিবার তিনি জানিয়েছেন, সকলের সম্মতি ছাড়া গাছ কাটা যাবে না। গত কয়েকদিন ধরে বহু সাধারণ মানুষ, পরিবেশকর্মী দেরাদুন-ঋষিকেশ চার-ছয় লেনের প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নানা পরামর্শও পেয়েছি। সেগুলি আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছি।