রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: আগামী ১ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে হিমঘর খুলে যাচ্ছে। ওইদিন থেকে হিমঘরে আলু মজুতের কাজ শুরু হবে। গতবারের থেকে এবার চাষিরা বেশি আলু হিমঘরে মজুত করতে পারবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে চাষিদের সুরাহা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, ১ মার্চ থেকে জেলার হিমঘর খুলে যাচ্ছে। ওইদিন থেকে চাষিরা হিমঘরে আলু মজুত করতে পারবেন।
Advertisement
বাঁকুড়ার উপ কৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, গতবার চাষিরা হিমঘরের মাত্র ২০ শতাংশ জায়গায় আলু মজুত করতে পারতেন। এবার তা বৃদ্ধি করে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। একইরকমভাবে চাষিরা আগে ৫০ বস্তা আলু মজুত করতে পারতেন। ওই পরিমাণও বেড়ে ৭০ বস্তা হয়েছে। জেলাশাসকের বিশেষ কোটায় হিমঘরের ৩০ শতাংশ জায়গাও চাষিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে। দপ্তরের প্রধান সচিবের নির্দেশমতো বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রচার শুরু করেছি। জেলা, মহকুমা ও ব্লক প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। জেলার মোট ৪৫টি হিমঘরে আলু মজুত করার সুযোগ চাষিরা পাবেন।
রাজ্য হিমঘর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল রানা বলেন, রাজ্যজুড়ে থাকা ৪৭০টি হিমঘরে আমরা আলু মজুত করব। তবে সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ১০ শতাংশ বেশি জায়গা চাষিদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আমরা হিমঘর খোলার আগেই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। চাষিদের পাশাপাশি আলু ব্যবসায়ী সহ অন্যান্যদের নিয়েও আমাদের চলতে হয়। এমনিতে এরাজ্যে কুইন্টালপিছু আলু রাখার ভাড়া অনেক কম। তার ফলে হিমঘরগুলি রুগ্ন হয়ে পড়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত আমাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দিলে সমস্যা আরও বাড়বে।
বড়জোড়ার আলু চাষি মিলন সরকার, ওন্দার রবি মণ্ডল বলেন, এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকার আমাদের জন্য হিমঘরে বাড়তি জায়গা বরাদ্দ করায় চাষিরা উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, নতুন আলু উঠতেই খোলাবাজারে দর হু-হু করে নামতে শুরু করেছে। আলু চাষিদের সুরাহা দিতে ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ময়দানে নেমেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শনিবার থেকে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি ও কৃষি বিপণন দপ্তর আলু কেনার কাজ শুরু করেছে। ওই আলু পশ্চিম বর্ধমানে পাঠানো হচ্ছে। ওই জেলায় আলুর চাহিদা রয়েছে। আসানসোল ও দুর্গাপুরের সুফল বাংলার স্টলে ওই আলু বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন আলু পুরো দমে উঠতে শুরু করলে এভাবে যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না তা প্রশাসন বুঝতে পারছে। সেই কারণে হিমঘরে আলু মজুত করে বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। রাজ্য হিমঘর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল রানা বলেন, রাজ্যজুড়ে থাকা ৪৭০টি হিমঘরে আমরা আলু মজুত করব। তবে সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ১০ শতাংশ বেশি জায়গা চাষিদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আমরা হিমঘর খোলার আগেই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। চাষিদের পাশাপাশি আলু ব্যবসায়ী সহ অন্যান্যদের নিয়েও আমাদের চলতে হয়। এমনিতে এরাজ্যে কুইন্টালপিছু আলু রাখার ভাড়া অনেক কম। তার ফলে হিমঘরগুলি রুগ্ন হয়ে পড়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত আমাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দিলে সমস্যা আরও বাড়বে।
বড়জোড়ার আলু চাষি মিলন সরকার, ওন্দার রবি মণ্ডল বলেন, এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকার আমাদের জন্য হিমঘরে বাড়তি জায়গা বরাদ্দ করায় চাষিরা উপকৃত হবে।
জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবারের তুলনায় এবার বাঁকুড়ায় বেশি আলু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার আলু চাষের এলাকাও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ৫৩ হাজার ২৭৭ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৫৬ হাজার ৬২৪ হেক্টর হয়েছে। জলদি জাতের পোখরাজ আলু চাষ হয়েছিল ১৬ হাজার ১৭৪ হেক্টর জমিতে। তা ইতিমধ্যেই উঠে গিয়েছে। ওই আলু বাজারজাত হতে শুরু করেছে। ৪০ হাজার হেক্টর এলাকায় চাষ হওয়া জ্যোতি আলু ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাবে বলে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা মনে করছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত জলদি জাতের পোখরাজ আলু বাজারজাত হচ্ছে। বিষ্ণুপুর মহকুমার প্রায় সব ব্লক, খাতড়া মহকুমার তালডাংরা, সারেঙ্গা, সিমলাপাল, রাইপুর এবং সদর মহকুমার বড়জোড়া, ওন্দার কিছু জায়গায় আলুর ভালো ফলন হয়। এবার বাঁকুড়ায় প্রায় ১৬ লক্ষ মেট্রিক টন আলু ফলবে বলে কৃষিদপ্তর ও প্রশাসনের আধিকারিকরা আভাস দিয়েছেন। সেইমতো হিমঘরের জায়গা রাখা প্রয়োজন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।



