নয়াদিল্লি, ৯ জানুয়ারি: দুবাইতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হল ভারতের বিদেশমন্ত্রকের শীর্ষকর্তা ও আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে। আর সেই বৈঠকের খবর সামনে আসতেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ঠিক যখন পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের সম্পর্ক তলানিতে। তখনই কাবুল ও নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চিন্তা বাড়াচ্ছে ইসলামাবাদের। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। গতকাল, বুধবার দুবাইতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে বৈঠক করেছেন আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক মন্ত্রী ও আধিকারিকরাও। মূলত দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে উঠে এসেছে ইরানের চাবাহার বন্দরের প্রসঙ্গ। ভারত ও আফগানিস্তান দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এই চাবাহার বন্দর। এই বন্দরের মাধ্যমেই যাবতীয় ব্যবসার পাশাপাশি কোনও দেশের পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী পায় কাবুল। ২০২১ সালে তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। পরবর্তীতে পুনরায় সুসম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে দুই দেশের তরফেই। আর গতকালের বৈঠক যে কাবুল ও নয়াদিল্লিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে সেটা বলার আর বাকি থাকে না। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরেই তালিবান সরকারকে ওষুধ পাঠানো থেকে শুরু করে নানারকম সাহায্য করে এসেছে ভারত। গতকালের বৈঠকে সেই সাহায্য আরও বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি। ওষুধ, খাদ্যসামগ্রী সহ আফগানিস্তানে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে উন্নয়নের জন্য ভারত পাশে দাঁড়াবে বলেও বৈঠকে জানিয়েছেন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি। এছাড়া, এই বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলা, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রীকে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, কাবুলের মাটি যেন ভারত বিরোধী কাজে না লাগাতে পারে কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী। আফগানিস্তানকে ক্রমাগত সাহায্য করার জন্য ভারতকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।



