Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

পাক ‘চর’ সন্দেহে ধৃত, হাইকোর্টের নির্দেশে ২০ বছর পর বিচারক পদে বসছেন প্রদীপ

পাক ‘চর’ সন্দেহে ধৃত, হাইকোর্টের নির্দেশে ২০ বছর পর বিচারক পদে বসছেন প্রদীপ
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
লখনউ: ২০০২ সালে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছিল কানপুরের প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে। দায়ের হয়েছিল দেশদ্রোহ মামলা। তখন বয়স ২৪। প্রমাণের অভাবে ২০১৪তে বেকসুর খালাসও হয়ে যান তিনি। প্রায় এক যুগের আইনি যুদ্ধে জয়ের পরে শুরু হয় জীবনের মূল ধারায় ফেরার নতুন লড়াই। দু’বছরের মাথাতে আসে সাফল্য। উত্তরপ্রদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রদীপ। অর্থাৎ বিচারকের আসনে বসা শুধু সময়ের অপেক্ষা! কিন্তু, বাদ সাধল অতীতের কালো অধ্যায়। দেশবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠায় কিছুতেই তাঁকে নিয়োগ দিচ্ছিল না রাজ্য সরকার। দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে বিচারকের আসনে বসতে চলেছেন প্রদীপ। এবার ত্রাতার ভূমিকায় এলাহবাদ হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে অবিলম্বে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 
Advertisement
বিচারপতি সৌমিত্র দয়াল সিং ও বিচারপতি ডি রমেশের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রদীপের বিরুদ্ধে অন্য কোনও দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই মামলায় সম্মানজনক মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতেই পারেন। সেই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া ঠিক নয়। হাইকোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন মনে হতেই পারে। কিন্তু, শক্তপোক্ত প্রমাণ না মিললে তাঁকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা সঠিক নয়। আদালত সূত্রে খবর, প্রদীপের নিয়োগ আটকাতে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকেও হাতিয়ার করেছিল রাজ্য সরকার। ১৯৯০ সালে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে বিচারকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই প্রসঙ্গও ওঠে হাইকোর্টে। তার পরিপ্রেক্ষিতে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, অন্য কারও কৃতকর্মের ভিত্তিকে কোনও ব্যক্তিকে বিচার করা ঠিক নয়। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, দু’সপ্তাহের মধ্যে প্রদীপের নথিপত্র যাচাই করে আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নিয়োগপত্র তুলে দিতে হবে। সেইসঙ্গে, বর্তমান শূন্যপদেই তাঁকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
সম্পর্কিত সংবাদ