Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেবি লিগে ইস্ট বেঙ্গলের জার্সি পরে খেলবে নবদ্বীপের ক্লাস ফাইভের পিউ

নবদ্বীপের পিউ বসাক ইস্ট বেঙ্গলের জার্সিতে খেলবে বেবি লিগে। কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

বেবি লিগে ইস্ট বেঙ্গলের জার্সি পরে খেলবে নবদ্বীপের ক্লাস ফাইভের পিউ
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দু’ চোখে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ছোটবেলা থেকে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে নবদ্বীপের ১১ বছরের পিউ বসাক। তার স্বীকৃতি আসতে চলেছে পিউর কাছে। আগামী  অক্টোবর থেকে অল বেঙ্গল ফুটবল ফেডারেশন ও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ব্লু কাপ বেবি লিগে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের জার্সিতে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলতে দেখা যাবে তাকে।

Advertisement

নবদ্বীপ বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিউ। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন করে নবদ্বীপের বিবেকানন্দ ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন মাত্র আট বছর বয়সে দিদা রিনা দাসের হাত ধরে নবদ্বীপের নদীয়া ক্লাব মাঠে ফুটবল খেলতে যাওয়া থেকে শুরু হয় তার যাত্রা।
নবদ্বীপ পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভড়পাড়ায় টিন ও টালির ছাউনি দেওয়া ভাঙাচোরা বাড়িতে বাবা-মা, এক বছরের ছোট ভাই ও দিদার সঙ্গে থাকে পিউ। বাবা পিন্টু বসাক ভ্যানরিকশয় করে আইসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালান। মা পম্পা দেবী গৃহবধূ এবং দিদা অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। আর্থিক অনটনের মধ্যেও ফুটবল অনুশীলনে কোনো খামতি রাখে না পিউ।
সম্প্রতি নদীয়া জেলার ওপেন উইমেন্স লিগে বিবেকানন্দ ফুটবল অ্যাকাডেমির হয়ে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলতে নেমে নজর কাড়ে সে। একটি ম্যাচে একাই পাঁচটি গোল করে সকলকে মুগ্ধ করে পিউ। সেই পারফরম্যান্সের পর শিয়ালদহ রেল মাঠে তার খেলা দেখে ইস্ট বেঙ্গলের কোচ শৈলেন সাহা তাকে বেবি লিগের জন্য নির্বাচিত করেন।
পিউয়ের বাবা পিন্টু বসাক বলেন, অভাবের সংসার হলেও কোনোদিন মেয়েকে বুঝতে দিইনি। ও ছোট থেকেই ফুটবল ভালোবাসে। কঠোর পরিশ্রম করে। কিন্তু সেই অনুযায়ী ওকে পুষ্টিকর খাবার দিতে পারি না। তবুও আশা করি, একদিন ওর স্বপ্ন পূরণ হবে। পিউয়ের কোচ প্রদীপকুমার সাহা বলেন, এই বয়সে ওর মতো প্রতিভা খুব কমই দেখা যায়। ও অত্যন্ত মনোযোগী এবং শেখার আগ্রহ অসাধারণ। একবার দেখালেই বিষয়টি আয়ত্ত করে নেয়। প্রতিদিনই মাঠে আসে। জল-ঝড়-বৃষ্টিতেও মাঠে আসা বন্ধ করে না। আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হলেও ওর লড়াই এবং নিষ্ঠা অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, শুনেছি মেয়েটি খুব ভালো ফুটবল খেলে। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাশে আমরা সবসময় আছি। আগামী দিনে যাতে সে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে, সেই জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করেও ফুটবলের মাঠে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে নবদ্বীপের ছোট্ট পিউ। এবার ইস্ট বেঙ্গলের জার্সিতে মাঠে নেমে নিজের স্বপ্নপূরণের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় সে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ