নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দেখে শান্তশিষ্ট মনে হলেও স্বভাবে আগ্রাসী। এই পাখির বৈশিষ্ট্যই হল, অন্য পাখিদের খাবার ছিনিয়ে নেওয়া। যাকে বলা হয় ক্লেপ্টোপ্যারাসিটিজম। সমুদ্রে জলদস্যুরা অন্য জাহাজে যেভাবে হানা দিয়ে সব লুট করে, তেমনই স্বভাব এদের। এই স্বভাবের জন্যই স্থানীয়ভাবে এই পাখির নাম জলদস্যু। তবে পক্ষী বিশারদরা একে আর্কটিক স্কুয়া বলেই চেনেন। মরু প্রদেশের এই পাখিকে এক দশক বাদে দ্বিতীয়বার দেখা গেল সুন্দরবনে। পক্ষীপ্রেমীদের ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে এই বিরল পরিযায়ী পাখি। এরা মূলত শিকার করে খাবার জোগাড় করে না। বরং গাঙচিল, টার্ন সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক পাখিকে তাড়া করে তাদের খাবার কেড়ে নেওয়াই এদের স্বভাব। তাড়া খেয়ে পালানোর সময় উড়ন্ত পাখির ঠোঁট থেকে শিকার খসে পড়লে, দ্রুত ছোঁ মেরে তা লুফে নেয় স্কুয়া। আবার কখনও কখনও সেই খাবার নীচে পড়ে গেলে তা কুড়িয়ে খাওয়ার অভ্যাসও রয়েছে তাদের।
পশ্চিম উপকূলে মাঝে মাঝে এই পাখির দেখা মিললেও পূর্ব উপকূলে স্কুয়ার দেখা পাওয়া বিরল ঘটনা। দিনকয়েক আগে গোসাবার বালি-১ দ্বীপে এই পাখিকে দেখা যায়। বাদামি রঙের এই পাখিকে দূর থেকে দেখে হাঁস বলে মনে হয়েছিল পাখি প্রেমীদের। কিন্তু তাদের স্বভাব হাঁসদের মতো নয়। কৌতূহল থেকে ছবিয়ালরা আরও কাছে গেলে রহস্য উন্মোচন হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাশয়ে ভেসে থাকা মরা মাছ খাওয়ার চেষ্টা করছিল আর্কটিক স্কুয়া। হয়তো কোনো পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছিল, তাকে ধাওয়া করেছিল এই জলদস্যু পাখি। তাড়া খেয়ে সেই পাখি খাবার ফেলে পালিয়ে গেলে তা দিয়েই পেটপুজো করছিল স্কুয়া। তবে আপাতত এমন একটি পাখি নজরে এসেছে পক্ষীপ্রেমীদের। মনে করা হচ্ছে, এবার সে একাই এসেছে ম্যানগ্রোভ ঘেরা জঙ্গলে।
জানা গিয়েছে, আর্কটিক স্কুয়া সাধারণত উত্তর গোলার্ধের দেশ স্কটল্যান্ড, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, উত্তর কানাডা, আলাস্কা ও সাইবেরিয়ায় প্রজনন করে। সেখানে শীত শেষ হলে তারা দক্ষিণ গোলার্ধের শীতের দেশে পাড়ি জমায়। এই সময় তারা দীর্ঘ সমুদ্রপথ অতিক্রম করে। পক্ষীপ্রেমী সংগঠনের সদস্য শীর্ষেন্দু সামন্তের ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে আর্কটিক স্কুয়ার ছবি। তিনি বলেন, সুন্দরবনে আসা পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে অন্যতম রোমাঞ্চকর সামুদ্রিক পাখি হল আর্কটিক স্কুয়া।
সুন্দরবনে মাঝে মধ্যেই বিরল পাখির দেখা মেলে। কেউ প্রথম এসেছে, কেউ আবার অনেক বছর পর এসেছে, এমন নজিরও রয়েছে। শান্ত ও নিরিবিলি দ্বীপের আশপাশেই তারা থাকতে ভালোবাসে। সেরকমই এবার এই জলদস্যু পাখিকে দেখে উচ্ছ্বসিত প্রকৃতি ও পাখিপ্রেমীরা।