


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: গান ও পটচিত্রের মধ্য দিয়ে এসআইআরের তীব্র প্রতিবাদ পিংলার পটশিল্পীদের। এসআইআরে বহু মানুষের ভোটাধিকার কাড়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই গান বেঁধেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার নয়া গ্রামের বাহাদুর চিত্রকর, মণিমালা চিত্রকররা। সেইসঙ্গেই এঁকেছেন মানানসই পটচিত্র। তাতে তুলে ধরা হয়েছে ভোটারদের লাইন থেকে ডিটেনশন ক্যাম্প সবকিছুই। পিংলার এই পটচিত্র গ্রামের শিল্পীদের একটাই আবেদন, ধনী-গরিব সবারই ভোটদানের সমান অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার অবিলম্বে ফেরানো হোক।
সবং বিধানসভার অধীন পিংলার নয়া গ্রামকে ‘পটচিত্র গ্রাম’ হিসেবেই চিনি আমরা। এই গ্রামের শিল্পীদের খ্যাতি পৌঁছেছে বিশ্ব দরবারে। এজন্য যাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম জানিয়ে কিছুদিন আগেই গান বেঁধেছিলেন বাহাদুর চিত্রকর, জবা চিত্রকর, মণিমালা চিত্রকররা। এবার তাঁরা গান ও ছবির মধ্য দিয়ে এসআইআরের প্রতিবাদ করছেন। অন্য একটি গানে শান্তিপূর্ণ ভোটের বার্তাও দিয়েছেন এই শিল্পীরা।
বাংলার এই সুপ্রাচীন লোকশিল্পে গান গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছবি (পটচিত্র) দেখানো হয়। এই গানে গণতন্ত্রের উৎসব বোঝাতে দেখানো হয়েছে ভোটারদের লাইন। ভোটাধিকার হারানো পরিবারের আর্তনাদও দেখানো হয়েছে। সর্বোপরি, ভোটাধিকার হারালে ডিটেনশন ক্যাম্পেও যেতে হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেই ছবিও এঁকেছেন পিংলার পটশিল্পীরা।
এই বিষয়ে ‘বিশ্ববন্দিত পটশিল্পী’ বাহাদুর চিত্রকর বলেন, বাংলায় উৎসবের মেজাজে ভোট হয়। এবার গণতন্ত্রের সেই উৎসব থেকে বঞ্চিত হলেন বহু ভোটার। তাই কমিশনের কাছে আমাদের আবেদন, অবিলম্বে সবার ভোটাধিকার ফেরানো হোক।
রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া, পেশায় শিক্ষক তথা সিপিএম প্রার্থী নকুলচন্দ্র বেরা বলেন, এই প্রতিবাদ আমাদের সবার। যেভাবে পটশিল্পীরা সেটা তুলে ধরেছেন। তাঁদের কুর্নিশ জানাই।