নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাড়ি থেকে আবর্জনা সাফাই বন্ধ। রাস্তায় পর্যন্ত জমে রয়েছে জঞ্জাল। সর্বত্র আবর্জনার স্তূপ। সবমিলিয়ে চূড়ান্ত দুর্ভোগের কবলে হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দারা। এখন প্রতিদিন সামান্য হলেও বৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা আবর্জনায় জল পড়ে পচন ধরছে। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বাড়িতে আবর্জনা জমতে থাকায় টেঁকা দায় হয়ে পড়েছে মানুষের। চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা তিনদিনের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। যার জেরে গোটা শহর কার্যত হয়ে উঠেছে নরক। অন্যদিকে, পুরভবনেও কাজকর্ম লাটে উঠেছে।
জানা গিয়েছে, পুরসভার প্রতিদিনের রোজগারের উপর অস্থায়ী কর্মীদের ভাতা দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। কর আদায়ের সেই কাজ বন্ধ। এদিকে দফায় দফায় চুঁচুড়ায় পরিষেবা নিয়ে সঙ্কট দেখা দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন শহরের বাসিন্দারা। গত বছরের শেষপর্বে কর্মীদের আন্দোলনের জেরে প্রায় তিন সপ্তাহ শহরের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফের এ বছর মাঝামাঝি সময় কর্মী বিক্ষোভের জেরে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান চাইছেন নাগরিকরা। পরিষেবার বেহাল দশার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায়। তিনি বলেন, ‘বাম-বিজেপি ও অন্যান্য চক্রান্তকারীরা শহরের নাগরিকদের পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে। বর্তমান শ্রমিক বিক্ষোভের পিছনে নানা মহলের উস্কানি আছে। বিষয়টি রাজ্য ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সামনে মহরম। তার আগে উল্টোরথের অনুষ্ঠান। আমরা পুরসভার নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে যতটা পারছি পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু সেখানেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।’
সোমবার পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলারসের(বিওসি) বৈঠক ছিল। তার আগে পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ৬৫ বছরের বেশি বয়সি অস্থায়ী কর্মীদের আর কাজ করানো হবে না। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁরা দিন প্রতি মজুরি ১০০টাকা বাড়ানো এবং অবসরকালীন ভাতা হিসেবে পাঁচ লক্ষ টাকার দাবি পেশ করেছিল। বিওসি বৈঠকে অবসরকালীন ভাতা হিসেবে ৫০ হাজার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে কথা জানার পর বিওসি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। সোমবার গভীর রাতে মহকুমা শাসকের হস্তক্ষেপে পুরকর্তারা মুক্তি পান। কিন্তু পরের দিন চালু হয়ে যায় কর্মবিরতি। ফলে পুরসভার সমস্তরকম পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাফাই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুর বাসিন্দারা সবথেকে বিপাকে। বৃহস্পতিবার অবস্থার কোনও বদল হয়নি। পাশাপাশি কর্মবিরতি কবে উঠবে তা নিয়ে রয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা। এই অবস্থায় ভয়াবহ দুর্ভোগের আশঙ্কায় শহরের নাগরিকরা। - নিজস্ব চিত্র