Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৌশিকী অমাবস্যার পর জঞ্জালের স্তূপ তারাপীঠে, চিলা কাঁদরের পাড়ে দূষণ

তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে মহাধুমধামে সম্পন্ন হয়েছে কৌশিকী অমাবস্যা উৎসব। কিন্তু উৎসবের আবহ মেটার পরেই প্রকাশ্যে এসেছে এখানকার কঙ্কালসার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

কৌশিকী অমাবস্যার পর জঞ্জালের স্তূপ তারাপীঠে, চিলা কাঁদরের পাড়ে দূষণ
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে মহাধুমধামে সম্পন্ন হয়েছে কৌশিকী অমাবস্যা উৎসব। কিন্তু উৎসবের আবহ মেটার পরেই প্রকাশ্যে এসেছে এখানকার কঙ্কালসার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। লক্ষ লক্ষ ভক্তের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, থার্মোকল, ব্যবহৃত শালপাতার থালা-বাটি, বোতল এবং স্থানীয় লজ ও রেস্তোরাঁগুলির আবর্জনায় ছেয়ে গিয়েছিল গোটা সিদ্ধপীঠ এলাকা। যদিও প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে তারাপীঠকে জঞ্জাল মুক্ত করার প্রয়াস নিয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় সেই  আবর্জনা তুলে তারাপীঠ ঢোকার মুখে চিলা কাঁদর পাড়ে ফেলা হচ্ছে। যার ফলে সেখানে দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে আগত পুণ্যার্থী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Advertisement

কৌশিকী অমাবস্যার আগে পর্যন্ত আটলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় আবর্জনা ফেলা হত। বর্তমানে তারাপীঠে ঢোকার মূল রাস্তার পাশে, চিলা কাঁদরের পাড়কে সাময়িক জঞ্জাল ফেলার কেন্দ্র বানিয়ে ফেলা হয়েছে। খোলা আকাশের নীচে জমে থাকা এই জঞ্জাল কুকুর, শুয়োর ও ছাগলের বিচরণের ফলে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। বর্ষার বাতাসে এবং পশুর পায়ে ঠেলে সেই বিষাক্ত বর্জ্য গিয়ে মিশছে কাঁদরের জলে, যা সরাসরি গিয়ে পড়ছে পবিত্র দ্বারকা নদে। ফলে শুধু বাতাস নয়, জলদূষণও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে লজের দরজা-জানলা বন্ধ করেও রেহাই মিলছে না। পথচারী ও পর্যটকদের মূল রাস্তায় নাক চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বদলে জঞ্জালকে জেসিবি মেশিন দিয়ে কেবল সমান করার চেষ্টায় ক্ষুব্ধ পুণ্যার্থীরা। কলকাতা থেকে আসা কিশলয় ভট্টাচার্য নামে এক পুণ্যার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুনেছি রাজ্য সরকার এবার কৌশিকী অমাবস্যা তিথি উপলক্ষ্যে ৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। তবে কেন এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে আসার মুখে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় থাকবে? আবর্জনা সরিয়ে ফেলার বদলে তা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেন হচ্ছে? প্রশাসন সূত্রে খবর, তৃণমূল সরকারের আমলে টিআরডিএর তরফে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও, যেখানেই জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেখানেই স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বছরের পর বছর কেটে গেলেও তীর্থভূমির আবর্জনা ফেলার কোনো স্থায়ী জায়গা বা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারেনি টিআরডিএ বা প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে টিআরডিএ সদস্য তথা তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চিলা কাঁদরের পাড় ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা নয়। টিআরডিএর আরেক সদস্য তথা রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা জানান, তিনি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছেন। 
যদিও বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন এবিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, সমস্যাটি নজরে এসেছে। চিলা কাঁদরের পাড় থেকে জেসিবি দিয়ে ময়লা তুলে ডাম্পারে লোড করে খুব শীঘ্রই তা অন্যত্র স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ